সব্যসাচী সরকার‌ ও প্রদীপ দে
কলকাতা, বহরমপুর, ৬ জুলাই

করোনার বিরুদ্ধে সাহস নিয়ে লড়াই করে আমরা জিতেছি, আপনারাও জিতবেন। মুর্শিদাবাদের কোভিড–‌১৯ ওয়ারিয়র্স ক্লাবের ২৯ জন করোনা–‌জয়ী এই বার্তা দিতেই কলকাতায় এলেন। আজ মঙ্গলবার থেকে কলকাতা ও রাজারহাটে পাঁচটি হাসপাতালে করোনা রোগীদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলবেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখবেন। করোনা–‌জয়ী ২৯ জন তরুণ মনে সাহস জোগানোর জন্য কলকাতায় এসেছেন। 
এঁরা মহারাষ্ট্র, কেরলের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন। এ রাজ্যে ফিরেই নমুনা সংগ্রহের পর দেখা যায় তাঁরা করোনা পজিটিভ। মনের জোরে সাহসের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়েছেন। আহাদ মণ্ডল, সোহেল রানা, মিজানুর মোল্লারা বলছেন ভয় পাইনি কখনও, মনে সাহস রেখেছিলাম। করোনাকে হারাতে হলে প্রথমে দরকার সাহস। কোভিড ১৯ ওয়ারিয়র্স ক্লাবের সদস্যরা মাস্ক, পিপিই পরে সব ধরনের সুরক্ষাবিধি মেনে আজ থেকে কাজ শুরু করবেন। মেডিক্যাল কলেজ, বেলেঘাটা আইডি, এম আর বাঙ্গুর, সিএনসিআই রাজারহাট, কেপিসি হাসপাতাল যাদবপুরে এই ২৯ জন প্রথম পর্যায়ে আসা কোভিড–‌জয়ীরা মনের সাহস বাড়াবেন আক্রান্তদের।
সোমবার মুর্শিদাবাদ থেকে বাসে করে এঁরা এলেন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। এখানেই এঁরা আপাতত দু’‌মাস থাকবেন। প্রত্যেক দিন সকালে এঁদের জন্য নির্দিষ্ট করা হাসপাতালে যাবেন। মাসে ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে পাবেন। করোনায় সুস্থ হওয়ার পরেও মুর্শিদাবাদের শহর, গ্রামে করোনা–‌জয়ীদের একঘরে করে রাখা হচ্ছিল। এই অবস্থায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তর বসে সিদ্ধান্ত নেয়, করোনা–‌জয়ীদের নিয়ে ক্লাব গঠন করা হবে। জেলার ৬০ জন করোনা–‌জয়ীকে নিয়ে তৈরি হয় কোভিড ১৯ ওয়ারিয়র্স ক্লাব। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক শল্য চিকিৎসক অমরেন্দ্রনাথ রায় এই ক্লাবের সম্পাদক। জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা, এসপি কে সবরী রাজকুমার, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকও এই ক্লাবের সদস্য। ক্লাবের সদস্যরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে করোনা নিয়ে সচেতনতা প্রচারও করছেন। এই ক্লাবের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও জানতে পারেন। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী বহরমপুর মডেলকে কাজে লাগানোর কথা বলেন। 
সোমবার সকালে ৩০ জন কোভিড ওয়ারিয়রকে ফুল দিয়ে সম্মান জানিয়ে কলকাতা রওনা করান জেলা প্রশাসনের কর্তারা। জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলেছেন, ‘‌এই করোনা যোদ্ধারা আমাদের জেলার গর্ব। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী আমাদের এই কাজের প্রশংসা করে মডেল করার কথা বলেছেন। এর থেকে বড় কথা আর কী হতে পারে।’‌ ওয়ারিয়র্স ক্লাবের প্রধান উদ্যোক্তা, তথা সম্পাদক ডাক্তার অমরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘‌একজন করোনা আক্রান্ত সুস্থ হওয়ার পর আর আক্রান্ত হন না। ফলে তাঁর থেকে রোগও ছড়ায় না। মানুষজন ভুল বোঝেন। নানা গুজবও রটে। আমাদের এই সদস্যরা প্রচার করে বলবেন, কেউ ভয় পাবেন না। একটু সতর্ক থাকলেই করোনাকে হার মানানো যায়।’
তিনি বলেন, আমি আশা রাখি এঁরা জেলার মুখ উজ্জ্বল করবেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের যুগ্ম সচিব শৈবাল চক্রবর্তী ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কমিশনার মহুয়া ব্যানার্জি— দু’‌জনেই বলেন, দেশে এই প্রথম করোনা আক্রান্তদের মনোবল বাড়াতে এধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও এই ধরনের ক্লাব তৈরি করা হয়েছে।
মূলত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সহায়তা করা এবং রোগীদের পাশে বন্ধুর মতো থাকা— এই তিন ভূমিকাই পালন করবেন এঁরা। 

জনপ্রিয়

Back To Top