‌দীপঙ্কর নন্দী
সকলেই সোশ্যাল মিডিয়া দেখবেন এবং নিজেরাও ব্যবহার করবেন। তৃণমূলের তরফে কর্মীদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। তিনি নিয়মিত ফেসবুক ও টুইটারে পোস্ট করেন। তিনি টুইটারে কী লিখছেন, ফেসবুকে কী পোস্ট করছেন, সে–সব কর্মীদের দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে দল। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যাপক কুৎসা ও অপপ্রচার করছে বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। অনেক সময়ে দেখা গেছে, যোগ্য জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা থেকে যাচ্ছে। দল চাইছে, নিজেরা আলোচনা করে যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হোক।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিও। প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত প্রায় সকলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পারদর্শী। তৈরি করা হয়েছে দলের সর্বভারতীয় মিডিয়া সেল। এঁরা নিয়মিত খবরাখবর দেন। দল চায়, কর্মীরা এই সব খবরাখবর নিয়মিত দেখুন।
করোনার জন্য অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। লকডাউনের জন্য প্রতিদিন মিটিং–মিছিল করা যাচ্ছে না। কন্টেনমেন্ট জোনে দলের কর্মসূচি বন্ধ। তৃণমূলের এক শীর্ষনেতা জানান, এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার ও ফেসবুকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। আইন ভেঙে, মিটিং–মিছিল হচ্ছে। তাই দল চাইছে সাংসদ, বিধায়ক, জেলা সভাপতি, মন্ত্রী— সকলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও সক্রিয় হোন।
দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি, প্রধান পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম, রাজীব ব্যানার্জি নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’‌ব্রায়েন সবচেয়ে বেশি সোশ্যাল মিডিয়া মারফত দলের কথা তুলে ধরেন। মহুয়া মৈত্র, কাকলি ঘোষদস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগান। দলের বিরুদ্ধে বিজেপি আক্রমণ করলেই এঁরা জবাব দেন। ইদানীং দীনেশ ত্রিবেদীও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন। বঁাকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি নিয়মিত ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। দল চায়, আরও অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন।
শুধু বিজেপি–কে যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্যই নয়, দল চায় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরুন কর্মীরা। ‘দিদিকে বলো’ এবং ‘বাংলার গর্ব মমতা’— এই দুটি জনসংযোগ কর্মসূচি খুবই সফল। ‘দিদিকে বলো’য় ফোন করে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে অনেকেই সামাজিকভাবে উপকৃত হয়েছেন। কেউ চাকরি পেয়েছেন, চিকিৎসার খরচও পেয়েছেন। এছাড়া এলাকার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে উপকৃত হয়েছেন অনেকে। লকডাউনের জন্য এই দুটি জনমুখী কর্মসূচি বন্ধ আছে। দল জানিয়েছে, যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অভ্যস্ত হতে পারছেন না, তাঁরা সিনিয়রদের কাছে শিখে নিন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top