আজকালের প্রতিবেদন
মাধ্যমিকে আবারও জোড়া সাফল্য পূর্ব মেদিনীপুরের। পাশের হারে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি রাজ্যের মেধা তালিকায় রয়েছে জেলার ৯ পড়ুয়া। এবার রেকর্ড গড়েছে এই জেলা। গত ৮ বছরের মতো এবারও পাশের হারে প্রথম পূর্ব মেদিনীপুর। পাশের হার ৯৬.৫৯ শতাংশ। এবার জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল ৫৮,৭৬০ জন। ২৮,০১৬ জন ছাত্র এবং ৩০,৭৪৪ জন ছাত্রী। ছাত্রদের পাশের হার ৯৭.৮৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৯৫.৬৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে জেলায় মাধ্যমিকের পাশের হার ছিল ৯৫.১৭ শতাংশ।
ভবানীচক হাইস্কুলের ছাত্রী দেবস্মিতা মহাপাত্র ৬৯০ নম্বর পেয়ে রাজ্যে তৃতীয় এবং মেয়েদের প্রথম হয়েছে। ৬৮৭ নম্বরে যুগ্ম ষষ্ঠ এগরার দক্ষিণচক হাইস্কুলের অরিজিৎ প্রহরাজ এবং জ্ঞানদীপ বিদ্যাপীঠের ছাত্র সপ্তর্ষি জানা। ৬৮৬ নম্বর পেয়ে সপ্তম নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাট আদর্শ হাইস্কুলের ছাত্র রিচিক সামন্ত, কোলাঘাট থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট হাইস্কুলের পিয়াস প্রামাণিক ও এগরা দক্ষিণচক হাইস্কুলের অনুষ্টুপ দাস। এ ছাড়াও ৬৮৫ নম্বর পেয়ে রাজ্যে অষ্টম কোলাঘাট থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট হাইস্কুলের সৌম্যপ্রভ দে। ৬৮৪ নম্বর পেয়ে নবম এগরার দুবদা ডি বীরেন্দ্র বিদ্যাপীঠের তন্ময় বর। ৬৮৩ নম্বর পেয়ে দশম এগরা জ্ঞানদীপ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের ছাত্র সোহম মাইতি।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় পাশের হার ৯২.১৬ শতাংশ। রাজ্যে দ্বিতীয়। পরীক্ষা দিয়েছিল ৫৩,৮৩৯ জন। মেধা তালিকায় রয়েছে জেলার দাসপুর বিবেকানন্দ হাই স্কুলের ছাত্র শুভঙ্কর মাইতি। সে যুগ্ম অষ্টম। পেয়েছে ৬৮৫। বাংলায় ৯৮, ইংরেজিতে ৯৬, অঙ্কে ১০০, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৮, জীবনবিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৯৬, ভূগোলে ১০০। বাবা সুখেন্দু মাইতি দাসপুরের কমলাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মী। মা রিতা মণ্ডল মাইতি গৃহবধূ। শুভঙ্কর দিনে ১০–১২ ঘণ্টা পড়ত। অবসরে ক্রিকেট খেলতে ও গল্পের বই পড়তে ভালবাসে। সে অধ্যাপনা করতে চায়। 
প্রথম অরিত্র ছাড়াও রাজ্যে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও যুগ্ম দশম স্থান পেয়েছে পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্ররা। বর্ধমান পুর উচ্চবিদ্যালয়ের তিন ছাত্র পঞ্চম, ষষ্ঠ ও দশম হয়েছে। এই স্কুলের স্বস্তিক সরকার ৬৮৮ পেয়ে পঞ্চম। স্বস্তিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চায়। শখ ছবি অঁাকা। বাবা সুজিত সরকার রাজ্য সরকারের কর্মী ও মা বুলাদেবী গৃহবধূ। ওই স্কুলের আর এক ছাত্র সৃজন সাহা রাজ্যে ষষ্ঠ। পেয়েছে ৬৮৭। বাবা মোহিত সাহা জীবনবিমার কর্মী ও মা মেখলাদেবী গৃহবধূ। সৃজন ক্রিকেট খেলতে ভালবাসে। তবে নিয়ম মেনে সে পড়াশোনা করত না। ওই স্কুলেরই দেবায়‌ূধ ঘোষ ৬৮৩ পেয়ে রাজ্যে দশম। তার ইচ্ছে ডাক্তার হওয়ার। তার শখ ছবি অঁাকা। বাবা দীনবন্ধু ঘোষ বঁাকুড়া সম্মিলনী কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক ও মা রুমিদেবী গৃহবধূ। বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সৌভিক সরকার রাজ্যে সপ্তম। পেয়েছে ৬৮৬। সে অঙ্ক, ইংরেজি ও ভূগোলে পেয়েছে ১০০। ইতিহাসে ৯৮, বাংলা ও পদার্থবিজ্ঞানে ৯৭ এবং জীবনবিজ্ঞানে ৯৪। বাবা পান্নালাল সরকার ব্যবসায়ী ও মা সুমনাদেবী গৃহবধূ। অন্যদিকে, ভাতারের বনপাশ শিক্ষা নিকেতনের ছাত্র শেখ পারভেজ জিৎ ৬৮৩ পেয়ে রাজ্যে দশম।
কাটোয়ার দুর্গাদাসী চৌধুরানী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ২ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীও প্রথম দশে। ৬৮৪ পেয়ে উর্জসী মণ্ডল নবম ও ৬৮৩ পেয়ে শ্রীপর্ণা খাসপুরি দশম হয়েছে। এ ছাড়া কালনার সুলতানপুর ভৈরবনালা এসকেইউএস হাইস্কুলের ছাত্রী অণ্বেষা ভট্টাচার্যও ৬৮৪ পেয়ে দশম। কাটোয়ার স্টেডিয়াম পাড়ার আলমপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক উত্তম মণ্ডলের মেয়ে উর্জসী ডাক্তার হতে চায়। পড়ার ফঁাকে ছবি অঁাকে আর গান করে। এই স্কুলেরই ছাত্রী দঁাইহাট হাইস্কুলের শিক্ষক গুরুচরণ খাসপুরির একমাত্র মেয়ে শ্রীপর্ণা খাসপুরি দশম। ডাক্তার হতে চায়। একই স্বপ্ন অণ্বেষারও।
৬৮৭ পেয়ে রাজ্যে ষষ্ঠ অশোকনগর বাণীপীঠ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অস্মি চৌধুরী। হাবড়ার ওই ছাত্রীর বাবা অমিতাভ চৌধুরী বনগঁা হাইস্কুলের শিক্ষক। মা ভাস্বতী শ্রীচৈতন্য কলেজের অতিথি অধ্যাপক। দিদি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে। অস্মি ডাক্তার হতে চায়। বনগঁা উচ্চ বিদ্যালয়ের মঞ্জুষ হালদার ৬৮৫ পেয়ে রাজ্যে অষ্টম। বাড়ি বনগঁার শক্তিগড়ে। বাবা দেবাশিস হালদার রাজ্য সরকারের অফিসার। মা মৌমিতা স্কুলশিক্ষিকা। মঞ্জুষও ডাক্তার হতে চায়। লেখালেখি এবং গানবাজনা তার প্রিয়।
মাধ্যমিকে সেরা দশে আরামবাগ মহকুমা থেকে রয়েছে চারজন। ৬৮৬ পেয়ে সপ্তম গোঘাটের বদনগঞ্জ সারদামণি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সম্প্রীতি কুণ্ডু। বাবা সমীর কুণ্ডু ব্যবসায়ী। সম্প্রীতি চায় সরকারি অফিসার হতে। আর এক সপ্তম দিব্যকান্তি ঘোড়ুই আরামবাগের গৌরহাটি হরদাস ইনস্টিটিউশনের ছাত্র। বাবা প্রণবকুমার ঘোড়ুই ওই স্কুলেরই শিক্ষক। এছাড়া পুরশুড়া দেউলপাড়া বি এন বিদ্যানিকেতনের সুপ্রতীক পণ্ডিত ৬৮৫ পেয়ে অষ্টম। সুপ্রতীকের বাবা ব্যবসায়ী। সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। গোঘাটের ভগবতী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের তৃষা সরকার ৬৮৩ পেয়ে দশম। বাবা স্বপন সরকার শিক্ষক।
পুরুলিয়া থেকে মেধাতালিকায় তিনজন। দু’‌জন পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের। ৬৮৭ পেয়ে ষষ্ঠ প্রিন্সকুমার সিং এবং ৬৮৩ পেয়ে দশম সায়ন বিশ্বাস। রঘুনাথপুরের মঙ্গলদা বিএনজে বিদ্যালয়ের শুভদীপ ব্যানার্জি ৬৮৪ পেয়ে নবম। শুভদীপের বাবা নন্দদুলাল ব্যানার্জি ওই স্কুলেরই শিক্ষক। দু’‌জনই বিজ্ঞান নিয়ে পড়বে। প্রিন্স শিক্ষক হতে চায়। সায়ন ডাক্তার হতে চায়। পুরুলিয়ার মঙ্গলদা বিএনজে বিদ্যালয়ের ছাত্র শুভদীপ ডাক্তার হতে চায়। রাজ্যের ৩৯টি সরকারি স্কুলের মধ্যে সব চেয়ে উজ্জ্বল বীরভূম জেলা স্কুল। মেধা তালিকায় প্রথম দশে এই স্কুলেরই ৪ ছাত্র। চতুর্থ অগ্নিভ সাহা (৬৮৯), ষষ্ঠ অর্চিষ্মান সাহা ও রাজিবুল ইসলাম (৬৮৭) এবং সপ্তম অরণি চ্যাটার্জি (৬৮৬)। 
সালানপুরের বারাবনির বালিয়াপুর গ্রামের মেয়ে অনুশ্রী ঘোষ বাড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে আসানসোলের মহিলা কল্যাণের ছাত্রী। রাজ্যে নবম। পেয়েছে ৬৮৪। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সবচেয়ে বেশি। ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়৷ বাবা অচিন্ত্য ঘোষ বেসরকারি সংস্থার কর্মী। মা অঞ্জনা গৃহবধূ৷ 

জনপ্রিয়

Back To Top