আজকালের প্রতিবেদন
ক্রীড়া দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লার স্ত্রী স্মিতা সান্যাল শুক্লা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার মন্ত্রী নিজেই এই খবর জানান। স্মিতাদেবী রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি পদে কর্মরত রয়েছেন। সেইসঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পেরও ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তিনি। জ্বর, সর্দির উপসর্গ থাকায় তাঁর সোয়াব পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই তাঁকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা, তাঁর ২ ছেলে ও বাবা–সহ পরিবারের ৪ জন ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। দু–একদিনের মধ্যে মন্ত্রী তাঁর নিজের এবং পরিবারের সকলের করোনা পরীক্ষা করিয়ে নেবেন বলে জানিয়েছেন।
করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কসবা থানার সাত পুলিশ কর্মী। এঁদের মধ্যে ১ জন এসআই, ৩ জন এএসআই, ২ কনস্টেবল এবং ১ জন সিভিক ভলান্টিয়ার। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিয়ালদার ডিআরএম অফিসের এক আধিকারিক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বন্ধ করা হয়েছে অফিস। চলবে জীবাণু মুক্ত করার কাজ। কলকাতা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন দুই করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়। বিন্নাগুড়িতে সেনা বাহিনীর ২০ জন জওয়ান করোনায় আক্রান্ত।
রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ক্রমশ বাড়লেও শনিবার ৬১১ জন সুস্থ হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়। রাজ্যে মোট সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৫৯ জন। সুস্থতার হার ৬৩.‌‌১১ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪৪ জন। মোট আক্রান্ত ২৮ হাজার ৪৫৩ জন। বর্তমানে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৫৮৮ জন। নতুন করে আরও ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৯০৬ জন। আগের তুলনায় দিনে টেস্টের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। এদিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ হাজার ৪০৩টি। মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ৬ লক্ষ ৫ হাজার ৩৭০। নতুন করোনা আক্রান্তদের মধ্যে কলকাতার ৪১২, উত্তর চব্বিশ পরগনার ৩২৭, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় ১৪৯, হাওড়ায় ১৩০, হুগলিতে ৫৬ জনসহ একাধিক জেলার বাসিন্দা রয়েছেন। এদিন মৃত ২৬ জনের মধ্যে কলকাতার ১৬ জন।
কন্টেনমেন্ট জোনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শনিবার হুগলি যান জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের রাজ্যের অধিকর্তা স্বাস্থ্য সৌমিত্র মোহন। জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও, জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। জেলাশাসক জানান, জনসাধারণের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য ব্যবসায়ী, হোটেল মালিকদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর নির্দেশ, গ্রাহক মাস্ক পরে না এলে বেচাকেনা বন্ধ রাখতে হবে।
শ্রীরামপুর ৩ নং ওয়ার্ড গোয়ালাপাড়া লেনে নতুন করে একজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এদিন তাঁর বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অভিনন্দা মুখার্জি–সহ শ্রীরামপুর পুরসভার প্রতিনিধিরা।
হুগলির উত্তরপাড়ার সুকান্ত সরণীর বাসিন্দা রূপশ্রী রক্ষিত (‌৬১) কয়েকদিন ধরে ডায়েরিয়া, জ্বরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে উত্তরপাড়ার এক নার্সিংহোমে নিয়ে গেলে ভর্তি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কোভিডের উপসর্গ থাকা ওই প্রৌঢ়াকে নিয়ে শুক্রবার একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ঘোরেন পরিবার। বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ‌কোভিড টেস্ট করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। তারপর উত্তরপাড়ার বাড়িতে নিয়ে আসেন। এদিন সকালে রোগীর কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট আসে। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ মৃত্যু হয় প্রৌঢ়ার। বাড়িতেই দীর্ঘক্ষণ পড়ে থেকে তাঁর দেহ। খাটে শোওয়ানো মৃতার পাশে দাঁড়িয়ে জামাই অভিজিত দেওয়ানজি পিপিই কিট পড়ে সোস্যাল মিডিয়ায় দেহ সৎকারের পদ্ধতিতে সরকারি সাহায্যের আবেদন জানান। উত্তরপাড়া পুরসভার পুর প্রশাসক দিলীপ যাদব জানিয়েছেন, পুরসভার মেডিক্যাল অফিসার ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারি নিয়ম মেনে যা করার তাই করা হবে।
 বিরাটীর প্রতাপগড়ের বাসিন্দা এক প্রৌঢ়া ৬ জুলাই আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি হন। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছিলেন। ৭ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। করোনা কিনা তা জানতে সেই রিপোর্ট এখনও পাননি বলে অভিযোগ পরিবারের।

জনপ্রিয়

Back To Top