সাগরিকা দত্তচৌধুরি
বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে রাজ্যের প্রথম সংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনার জন্য উৎকর্ষ কেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। যার সূচনা ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি করেছেন। আইডি–তে এই সংক্রামক রোগের সেন্টার অফ এক্সেলেন্স বা উৎকর্ষ কেন্দ্র তৈরি হলে আগামী দিনে চিকিৎসাক্ষেত্রে ও গবেষণার কাজে অনেক সুবিধে হবে। রাজ্যের মুকুটে একটা যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কীভাবে এই উৎকর্ষ কেন্দ্রের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে তার সুর্নির্দিষ্ট নির্দেশিকা এখনও পাঠায়নি স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে।
উৎকর্ষ কেন্দ্র হলে রোগী পরিষেবার আরও উন্নতি হবে। বর্তমান পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজিয়ে আগামী দিনে আরও নতুন কিছু বিভাগ খোলা হবে। এর ফলে শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়বে। বর্তমানে আইডি–তে মেডিসিন, পেডিয়াট্রিক মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি, কমিউনিটি মেডিসিন, রেডিওলজি— এই পাঁচটি বিভাগ রয়েছে। উৎকর্ষ কেন্দ্র হয়ে গেলে আরও একাধিক বিভাগ চালু করে নতুন নতুন সংক্রামক রোগের চিকিৎসা শুরু করা যাবে। ইমার্জেন্সির পরিকাঠামো আরও আধুনিক ভাবে করা হবে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর,  ইতিমধ্যেই ১৪ জন মেডিক্যাল অফিসার যোগ দিয়েছেন। খুব তাড়াতাড়ি ১০টি আসন নিয়ে এখানে ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি (‌ডিএমএলটি)‌ কোর্স চালু হবে। স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী ও স্বাস্থ্য (‌শিক্ষা)‌ অধিকর্তা ডাঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আইডি–তে শূন্যপদ পূরণের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে আরও প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট, অ্যাসিট্যান্ট প্রফেসর পদে নিয়োগ করা হলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ প্রতি মূহূর্তে পাওয়া যাবে। চলবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংক্রামক রোগ নিয়ে আসা রোগীদের পৃথক তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করে গবেষণার কাজ চালানো হবে। নতুন কিছু ওষুধের ট্রায়ালও করা যাবে। স্বাস্থ্য দপ্তরে দেওয়া হাসপাতালের প্রস্তাবনায় দশতলা একটি বিল্ডিং তৈরির কথাও উল্লেখ রয়েছে। সেখানেই উৎকর্ষ কেন্দ্রের জন্য যা যা প্রয়োজন সব গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোয়াইন ফ্লু, চিকেন পক্স, কলেরা, ডিপথেরিয়া, ডায়েরিয়া, ডেঙ্গি ও আরও একাধিক সংক্রামক রোগের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে কোভিড–১৯ এর চিকিৎসা হচ্ছে। রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কাজ হবে উৎকর্ষ কেন্দ্রে। আইডি–র উপাধ্যক্ষ ডাঃ আশিস মান্না বলেছেন, ‘‌গবেষণার কাজকর্মের জন্য পৃথক উইং গড়ে তোলার পাশাপাশি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও আগামী দিনে আমূল পরিবর্তন হবে। স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে সংক্রামক রোগের ৬ আসনের ডিএম কোর্স চালু হলে ভবিষ্যতে চাইলে পিএইচডি কোর্সও চালু করা যাবে এখানে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top