প্রদীপ দে
বহরমপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর

আল কায়দা জঙ্গি সন্দেহে মুর্শিদাবাদ থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করল এনআইএ। কেরল থেকে আরও ৩ জনকে। এরাও মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ৯ জন। এদের মধ্যে একজন কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র। আরেকজন কলেজ পড়ুয়া। এনআইএ সূত্রে খবর, এরা পাকিস্তান ভিত্তিক আল কায়দা মডিউলের অংশ। দিল্লি–সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছিল। চক্রে আর কারা রয়েছে?‌ হামলার ছকই বা কীভাবে?‌ জানতে তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের ইউএপিএ অ্যাক্টে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
শনিবার সকালে এনআইএ মুর্শিদাবাদের ডোমকল ও জলঙ্গিতে অভিযান চালায়। সঙ্গে ছিল দিল্লি এনআইএ–র একটি বিশেষ দলও। গ্রেপ্তার করা হয় আবু সুফিয়ান, মইনুল মণ্ডল, আতিউর রহমান, লিউ ইয়ান আহমেদ, নাজমুস সাকিব ও আল মামুন কামালকে। তাদের কলকাতায় এনে ব্যাঙ্কশাল আদালতে বিশেষ এনআইএ আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানিয়েছেন, এদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ–র বিভিন্ন ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালত ধৃতদের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রানজিট রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছে। এদের দিল্লি নিয়ে গিয়ে পাটিয়ালা হাউস কোর্টে তোলা হবে। সেখানেই চলবে তদন্ত। 
এনআইএ সূত্রে খবর, ধৃতদের কাছ থেকে জেহাদি নথি, ধারালো অস্ত্র, দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, আইইডি, বডি আর্মার উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, এরা আল কায়দার ভারতীয় শাখার সক্রিয় সদস্য। অন্যদিকে এদিনই কেরলের এর্নাকুলাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মুর্শিদ হাসান, লিয়াকুব বিশ্বাস এবং মোসারফ হোসেনকে। এদের বাড়িও ডোমকলে। 
সুফিয়ানের বাড়ি রানিনগর থানার রামনগর মধ্যপাড়ায়। মইনুল জলঙ্গির মধুবোনার, ডোমকলে বাড়ি লিউ ইয়ান আহমেদ আর নাজমুস সাকিবের। আতিউর জলঙ্গির ঘোষপাড়ার, আল মামুন সাগরপাড়া থানার নওদাপাড়ার বাসিন্দা। এর্নাকুলামে ধৃত  মুর্শিদ, লিয়াকুব বিশ্বাস, মোসারফ হোসেন। আতিউর, মোসারফ দুই ভাই। আতিউর একটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। নাজমুস  একটি বেসরকারি কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ওই কলেজেই অস্থায়ী কর্মী লিউ ইয়ান। গোয়েন্দাদের দাবি, এর্নাকুলামে ধৃতরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে ডোমকল, জলঙ্গি, রানিনগর থানার ছেলেদের যুক্ত করে।
গোয়েন্দাদের দাবি মানতে নারাজ ধৃতদের পরিবার, এলাকাবাসী। নাজমুসের বাবা নুরুল ইসলাম বললেন, ‘‌আমার ছেলে কলেজে পড়ে। দেশবিরোধী কাজ কেন করবে।’‌ মা ডোমনা বিবি বলেন, ‘‌ছেলের দাড়ি দেখে একজন অফিসার বলেন, দাড়ি কেন রেখেছিস। তারপর টানতে টানতে নিয়ে গেল।’‌ আল মামুনের স্ত্রী আশিরা খাতুন বলেন, ‘স্বামীর অপরাধ জানতে চাওয়ায় বলা হল তাঁকেই জিজ্ঞেস করতে।’‌ আবু সুফিয়ানের দাদা জিন্নাতুন ইসলাম জানান, ‘‌ভাই দর্জির কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালায়। সে অন্যায় কাজ করতে পারে না।’‌ আতিউর গরিব ঘরের মেধাবী ছাত্র। তার দাদা মোসারফ ১৫ বছর এর্নাকুলামে থাকে। বাড়ি আসে না। ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ ছিল। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, ধৃতরা ইদানীং ধর্মীয় সভায় যেত।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top