আজকালের প্রতিবেদন
রাজ্যে নতুন করে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত হয়েছেন ৫৪৫ জন। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে মোট ছুটি পেয়েছেন ১৪ হাজার ৭১১ জন। সুস্থতার হার ৬৬.‌৪৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৯৫ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ১২৬ জন। বর্তমানে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৫৮ জন। নতুন করে রাজ্যে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা রাজ্যে বেড়ে দাঁড়াল ৭৫৭ জন। চিকিৎসায় কোনওরকম খামতি দেরি যেন না হয় তার জন্য সরকারি–বেসরকারি সমস্ত হাসপাতালকে কড়া হুঁশিয়ারি  দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।  
কলকাতায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। রবিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী কলকাতা ২৪৪ , উত্তর ২৪ পরগণা ২১৪, দক্ষিণ ২৪ পরগণা ১১৮, হাওড়া ১১১, হুগলি ৬২ জন সহ একাধিক জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ৫ লক্ষ ৪১ হাজার ৮৮টি। মৃতের তালিকাতেও শীর্ষস্থানে রয়েছে কলকাতা  ও উত্তর ২৪ পরগণা।
এদিকে এনআরএসে নতুন করে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। রোগী ও এক চিকিৎসক মিলিয়ে ৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। তাদেরকে এমআর বাঙুর, বেলেঘাটা আইডি ও কলকাতা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়েছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে এক কর্মী ও তাঁর স্বামী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কলকাতা মেডিক্যালের এক নিরাপত্তারক্ষীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।  
বিধাননগর কমিশনারেটের (পরিযান) এক শীর্ষ কর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার তাঁর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাঁর স্ত্রীও করোয় আক্রান্ত। কোনও উপসর্গ না থাকায় দু’‌জনেই হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। ওই পুলিশ কর্তার গাড়ির চালক, রক্ষী সহ চার  জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পঞ্চসায়র থানার এক এসআই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
রাজ্যের চারটি সংশোধনাগারে কয়েকজন কর্মী ও আবাসিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কারা দপ্তরের এক আধিকারিক এই খবর জানিয়ে বলেন, বারুইপুর সংশোধনাগারে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন আবাসিক এবং ৫ জন কর্মী, বসিরহাট সংশোধনাগারে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন কর্মী, প্রেসিডেন্সিতে ১ জন কর্মী এবং আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ জন আবাসিক। এদের মধ্যে ৫ জনের উপসর্গ থাকায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা উপসর্গহীন। তবে সকলেই আপাতত ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।
রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে মেডিকা হাসপাতালের পিপিই, চিকিৎসকের কনলাসটেশন চার্য কমানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে শয্যা সংখ্যাও। এদিন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ অলোক রায় এক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘‌কোভিড লড়াইয়ে আমরা রাজ্য সরকারের পাশে আছি। কোভিডের চিকিৎসায় ৯০ টি শয্যা থেকে আরও ৪০ টি বাড়িয়ে মোট ১৩২টি শয্যা করা হয়েছে। কোভিড টেস্টের জন্য ২,২৫০ টাকা, পিপিই কিট ১ হাজার এবং  চিকিৎসকের কনসালটেশন বাবদ ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।’‌  
শালবনি কোভিড  হাসপাতালের ৩ নার্স ও ১ চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জিন্দাল শিল্প সংস্থার দেখভালের দায়িত্বে থাকা শালবনি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালটি ১৭ জুন অধিগ্রহণ করে সম্পূর্ণ কোভিড হাসপাতালে পরিণত করে রাজ্য সরকার। এদিকে খড়গপুরে একদিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭ জন। এর মধ্য ভিন রাজ্য থেকে এসেছেন দু’‌জন। বাকি দু’‌জন স্থানীয় বাসিন্দা। করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার তিন দিন আগে কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে পালিয়ে বাড়িতে আসার খবরে তেহট্ট-১ ব্লকের বেতাই দক্ষিণ জিতপুর খড়েরমাঠ গ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।


 

জনপ্রিয়

Back To Top