অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
‘‌বিসর্জনের পরে’‌ পালার তৃতীয় অঙ্ক রবিবার সকালেই লিখতে শুরু করেছেন অনল চক্রবর্তী। গত ছ’‌মাসে করোনা–‌আবহে বারবার মনে হয়েছে, সব কিছুই বোধহয় বিসর্জন হয়ে গেল। অবসাদ এসেছে পালাকারের মনে। শনিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর থেকে রাজ্যে খোলা হবে সিনেমা হল। শুরু হবে থিয়েটার, যাত্রা, নাচ, গানের অনুষ্ঠান। এই ঘোষণায় অবসাদ সরিয়ে আবার নতুন করে পালা লেখা শুরু করেছেন অনল চক্রবর্তী। বললেন, বিসর্জনের পরেও আবাহন হয়। মনে মনে টের পাচ্ছি। অগ্রগামী অপেরার নতুন পালা লেখা শেষ করেই মহড়ায় নামবেন পালাকার, নায়ক অনল। পাশে থাকবেন নায়িকা কাকলি চৌধুরি। চিৎপুরে খুশির হাওয়া। তিন–তিনটি যাত্রাদলের মালিক, যাত্রা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কনক ভট্টাচার্য বললেন, যাত্রাকর্মীদের মুখে হাসি ফুটেছে। শিগগিরই শুরু হবে মহড়া। বায়নাও হবে এবার। পুজোর পরেই পালা নামানোর চেষ্টা করবেন অনল, কাকলি, কনক ভট্টাচার্যরা।
মিনার, বিজলী, ছবিঘরের কর্ণধার সুরঞ্জন পাল বললেন, আশার আলো দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি নির্দেশিকা পেলে বুঝতে পারব কী কী স্বাস্থ্যবিধি বা সাবধানতা মেনে হল খোলা যাবে। সেটারই অপেক্ষা করছেন সুরঞ্জন পাল–‌সহ অন্য হল মালিকরা। খুশির আবহ রাজ্যের সমস্ত সিনেমা হলেই। ছ’‌মাস অনেক কষ্টে থাকা হল কর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। তবে সব বিধি ব্যবস্থা মেনে ঠিক কবে থেকে সিনেমা হল খোলা যাবে, এটা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। প্রযোজকদের সংস্থা ইম্পার পক্ষে পিয়া সেনগুপ্ত বললেন, আশার আলো জ্বাললেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন প্রযোজকরা কবে ছবি রিলিজ করবেন, সেটা দেখতে হবে। অনেক প্রযোজকই আগে বলেছিলেন, পুজোর আগে ছবি রিলিজ করতে চান তাঁরা।
এসভিএফ–এর অন্যতম ডিরেক্টর মহেন্দ্র সোনি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জাতীয় স্তরে কবে থেকে সিনেমা হল খোলার সিদ্ধান্ত হবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। নতুন ছবি রিলিজ না হলে সিনেমা হলগুলো চালানো কঠিন। ফলে, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার অপেক্ষা করছেন তাঁরা।সারা দেশে হল খোলার অনুমতি যদি কেন্দ্রীয় সরকার না দেয়, তাহলে হিন্দি ছবিও মুক্তি পাবে না। আর, হিন্দি ছবি দেখানোর সঙ্গে সিনেমা হলগুলোর ব্যবসা ভীষণভাবে জড়িত। তাই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় খুশি হয়েও সিনেমা হল মালিকদের দুশ্চিন্তা কাটছে না!‌
‘‌সিনেমাওয়ালা’‌র পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, কোনও ধন্যবাদই তাঁর জন্যে যথেষ্ট নয়। 

 

হলের তালা খুললে হাজার হাজার সিনেমাকর্মী আর সিনেমাওয়ালাদের মুখে হাসি ফুটবে।
টালিগঞ্জ পাড়ার প্রযোজকরা খুব খুশি। পুজোর আগে কী কী ছবি মুক্তি পেতে পারে ‌কয়েক দিনের মধ্যে জানা যাবে।
যাত্রাপাড়া, সিনেমাপাড়ার মতো খুশির হাওয়া থিয়েটার মহলেও। নাট্যকার, পরিচালক অভিনেতা ব্রাত্য বসু বললেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সবাই আনন্দিত। কতজন দর্শক আসবেন, সেটা যেমন ভাবতে হবে, অর্থনৈতিক দিকটাও নিশ্চয়ই দেখতে হবে, কিন্তু আগে তো ‘‌নর্মাল’‌–‌এর দিকে যাওয়া দরকার। সেই দরজাটা খুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিনেতা, পরিচালক চন্দন সেন বললেন, কেন্দ্রীয় সরকার যতদিন না ট্রেন চালু করছে, ততদিন শুধু থিয়েটার নয়, সব ক্ষেত্রেই জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে তাঁরই মতো স্বাগত জানালেন অভিনেত্রী, পরিচালক পৌলমী চট্টোপাধ্যায়। পৌলমী বললেন, দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল এই ছ’‌মাসে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় অক্সিজেন পেলাম। আবার রিহার্সাল শুরু করব।
গানের জগতেও স্বস্তির আবহাওয়া। এতদিন শুধু ভার্চুয়াল গানের জলসা করে আর মন ভাল থাকছে না। জ্যান্ত দর্শকের সামনে জ্যান্ত শিল্পীরা এবার আসতে পারবেন, এর চেয়ে খুশির খবর আর কী হতে পারে?‌ উচ্ছ্বাস লোপামুদ্রা মিত্রের কণ্ঠে।
সবাই চাইছেন, তালা খুলুক সিনেমা, থিয়েটারের, গ্রামের মাঠে আবার বসুক যাত্রার আসর। সতর্কতা, স্বাস্থ্যবিধি দিয়েই করোনাকে জব্দ করতে চান সবাই। কিন্তু দরজা খুলুক। আকাদেমিতে দর্শকদের যিনি আলো দেখান, সেই সজল পাল খুশিতে ডগমগ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায়। বললেন, টর্চের ব্যাটারি কিনে নিলাম। এবার শুধু আলো জ্বালানোর অপেক্ষা।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top