আজকালের প্রতিবেদন
সংবিধান নির্দেশিত এক্তিয়ারের সীমা ছাড়াচ্ছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ‘‌অবাঞ্ছিত বাড়াবাড়ি’‌ করছেন। অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখা এক চিঠিতে রাজ্যপালকে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ৯ পাতার চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে রাজ্যপালের ভূমিকা বা ক্ষমতা বিষয়ে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ, সংবিধান–‌প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের ভাষ্য। 
সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত নিয়ে রাজ্যপাল ধনকড় সরাসরি রাজ্য পুলিসের প্রদান বীরেন্দ্র কাছে রিপোর্ট চেয়ে বসেছিলেন। এবিষয়ে টুইটও করেছিলেন। রাজ্যপালের ৫ সেপ্টেম্বরের লেখা চিঠি, তাঁর এডিসি মেজর গৌরাঙ্গ দীক্ষিতের ২০ তারিখের চিঠির সঙ্গে পাঠানো তাঁর নোট, এবং রাজ্যপালের প্রকাশ্য টুইটের কথা উল্লেখ করে চিঠির শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, এগুলি পড়ে তিনি ‘‌অত্যন্ত বিচলিত, ক্ষুব্ধ, হতাশ’‌। রাজ্য পুলিশ এবং রাজ্য সরকারের নামে ভিত্তিহীন।‌
রাজ্যপাল যেভাবে রাজ্যকে ‌‌সন্ত্রাসবাদ, অপরাধ, বোমা তৈরি ও দুর্নীতির মুক্তাঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এগুলো সবই ভিত্তিহীণ ও মিথ্যা অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এর উদ্দেশ্য মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করা এবং প্রাণহানি ঘটানো, যার জন্য ‘‌আইনের চোখে রাজ্যপাল দায়ী’‌ থাকবেন। এমন সব অভিযোগ আনার পরিবর্তে তাঁর দায়িত্ব পুলিশকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে অবহিত করা, যাতে আমাদের ‘‌সুখী, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধিশীল’‌ রাজ্যে এই সব অপরাধ আটকানো সম্ভব হয়। 
সাংবিধানিক পদে থেকে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব যে করা যায় না, তা রাজ্যপালকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সংবিধান প্রণেতারা মোটেই এমন দ্বৈত শাসনের কথা কল্পনা করতে পারেননি। তাঁদের কাছে রাজ্যপালের পদটা ছিল আলঙ্কারিক। এরপর এই প্রসঙ্গে বি আর আম্বেদকর, সর্দার হুকুম সিং প্রমুখেরা কী বলেছিলেন তার উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে দেখা যাচ্ছে আম্বেদকর স্পষ্টই বলেছিলেন রাজ্যপালের নিজস্ব কোনও ক্ষমতা নেই;‌ তাঁকে মন্ত্রিসভার কথা শুনে চলতে হবে। 
এই প্রসঙ্গে সরকারিয়া কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে রাজ্যপালের হাত–পা বেঁধে দিয়েছিল, তারও উল্লেখ করেছেন মমতা। বলেছেন, এই বছর সুপ্রিম কোর্ট শিবরাজ সিং বনাম মধ্যপ্রদেশের স্পিকারের মামলায় সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট বলেছিল, ‘‌রাজ্যপাল এমন কোনও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের হয়ে কাজ করতে পারেন না যারা একটি নির্বাচিত সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করে।’‌ তাঁকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার কথাই বলেছে সর্বোচ্চ আদালত। 
এরপর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে অনুরোধ করেছেন ও পরামর্শ দিয়েছেন সংবিধান মেনে কাজ করতে। সরাসরি রাজ্যের অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা থেকে তাঁকে বিরত থাকতেও অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাছাড়া ‘‌অপরাধ’‌ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সরকারকে দিতে বলেছেন তিনি। সবশেষে তিনি রাজ্যপালকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে গণতন্ত্র ও রাজ্যের মানুষের স্বার্থে সবাইকেই সংবিধানের চৌহদ্দি ও আইনের অনুশাসন মেনে কাজ করতে হবে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top