আজকালের প্রতিবেদন
আবারও কাঠগড়ায় ডিসান হাসপাতাল। মাত্র ১৯ ঘণ্টা ভর্তি ছিলেন রোগী। বিল ধরানো হয় ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৪৭৮ টাকা। তাই দেখে চক্ষু চড়কগাছ পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের। অতিরিক্ত বিলের অভিযোগে রোগীকে ৬৫ হাজার ৪৭৮ টাকা ফেরতের নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য কমিশন। একাধিক অভিযোগের শুক্রবার শুনানি হয়। শুনানি শেষে সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার ব্যানার্জি এই নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ের সঙ্গে বলেছেন, ‘‌বেসরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন টেস্টের খরচ বেঁধে দিতে চলেছি। দুটি কমিটি করা হয়েছে। ডাঃ প্রদীপ মিত্র দেখছেন প্যাথলজিক্যাল টেস্ট সংক্রান্ত বিষয় ও ডাঃ প্রদীপ দেব দেখছেন রেডিওলজি সংক্রান্ত অর্থাৎ এক্স–রে, ইউএসজি প্রভৃতি বিষয়। ইতিমধ্যেই কমিটির সঙ্গে স্বাস্থ্য কমিশনের বৈঠক হয়েছে। কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্ট ও তালিকা দিলেই অবিলম্বে তা নির্দেশাকারে লাগু করবে কমিশন।’‌      
ডিসান হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ কমিশনে করেছেন হাওড়ার বাসিন্দা ৫৭ বছরের অশোককুমার চৌরারিয়া। এবছর ২২ আগস্ট রাত ২টো ৪০ নাগাদ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকাল সাড়ে সাতটায় তাঁর কোভিড টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। রাত সাড়ে ৯টার সময় রোগীর ছেলে তাঁকে ছুটি করিয়ে অন্যত্র নিয়ে যান। রোগীকে ঠিকমতো দেখভাল করা হয়নি, অতিরিক্ত বিল, অল্প সময়ের মধ্যে একগুচ্ছ দামি টেস্ট করানো–‌সহ একাধিক অভিযোগ ছিল।
কমিশনের চেয়ারম্যান অসীমবাবু জানিয়েছেন, ওই সময়ের মধ্যে রোগীর থেকে শুধু বেড চার্জ ২৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বক্তব্য, হোটেলের মতো রাত ২টো ৪০ থেকে বেলা ১২টা ও ১২টা থেকে রাত ৯টা৩০ পর্যন্ত ধরে পৃথক পৃথক চার্জ করা হয়েছে। বিল খতিয়ে দেখতে গিয়ে কমিশনের নজরে আসে একাধিক খামতি। প্যাথলজিতে কোভিডের একটি খুব দামি টেস্ট আইএল–৬ সাড়ে চার হাজার টাকা করে একদিনে দু’‌বার করা হয়েছে। লিভার ফাংশন টেস্ট, সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো একাধিক পরীক্ষার চার্জ অনেক বেশি ধরা হয়েছে। রোগী ভর্তির সময় ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। ছুটির সময় ৬৫ হাজার ৪৭৮ দেন। এই টাকাটা রোগীকে ফেরতের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ডিসানকে সতর্কও করা হয়।  

 

 

বিপি পোদ্দার হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ৩৯ বছরের কোভিড আক্রান্ত রোগী রাজীব সিং। তাঁর বক্তব্য তিনি ৮ দিনের মতো ভর্তি ছিলেন, ঠিকমতো চিকিৎসা পাননি, অনেক বিল করে। মোট বিল হয় ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৫৯ টাকা। বিমা কোম্পানি অনুমোদন করে ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৬৭৩ টাকা। বাকি টাকা রোগীকে দিতে হয়। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বিল পর্যবেক্ষণের সময় দেখা গেছে সরকারি নিয়ম ও কমিশনের কোভিড অ্যাডভাইজরি লঙ্ঘন করেছে হাসপাতাল। চিকিৎসকের ফিজ, আইএল–৬ টেস্ট ৬৫২৫ টাকা, অন্যান্য টেস্ট, পিপিই ক্ষেত্রে অনেক বেশি চার্জ নিয়েছে। আবার আলাদা করে মাস্কের দামও ধরা হয়েছে। ৫০ হাজার টাকা রোগীকে ফেরতের নির্দেশ দেয় কমিশন। ওই দু‌টি মামলা প্রসঙ্গে অসীমবাবু বলেন, ১২৫০ টাকায় কলকাতার বড় ল্যাবরেটরিতে লিভার ফাংশন টেস্ট হয়। সেই একই টেস্ট ডিসানে ১৯০০ টাকা, আবার বিপি পোদ্দারে ২,৬৮৩ টাকা নেওয়া হয়েছে।
 বেহালার গোপাল মিশ্র রোডের বাসিন্দা ৬৪ বছরের বিপ্লব চ্যাটার্জি ডিসানে কোভিড পজিটিভ নিয়ে ভর্তি হন ৩১ জুলাই। ৮ আগস্ট মারা যান। মৃতের ছেলে লোকনাথ চ্যাটার্জির অভিযোগ, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ঠিক করে জানানো হয়নি। ফোনে চিকিৎসকদের কথার সঙ্গে কোনও মিল থাকত না। মৃত্যুর পর অন্য রোগীর রিপোর্ট দেওয়া হয়। বিল অনেক করা হয়। হাসপাতালের কাছে রোগীর সমস্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি চেয়েছে কমিশন।
মৌলালির সিআইটি রোডে হরাইজন হাসপাতাল কোভিড টেস্টের জন্য বেশি চার্জ করায় ৫৬০০ টাকা রোগীকে ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়। দুর্গাপুরের এক সরকারি অফিসার ১৭ বছরের কোভিড আক্রান্ত ছেলেকে ঠিকমতো অন্যত্র ভর্তির ব্যবস্থা না করানোয় পরে রোগীর মৃত্যু হয়। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মিশন হাসপাতালকে ২৫ হাজার টাকা জমা রাখার নির্দেশ দেয় কমিশন।    


জনপ্রিয়

Back To Top