শিখর কর্মকার
হাইকোর্টের রায়ের পর কী করবেন ভেবে উঠতে পারছেন না পুজো উদ্যোক্তারা। যেভাবে পুজো মণ্ডপগুলি রয়েছে, তাতে রায় মেনে কীভাবে দর্শনার্থীদের দেখাবেন তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কিছু পুজোয় দর্শনার্থীদের জন্য দেখার জায়গা থাকলেও অনেকের তা নেই। এ নিয়ে মতামত জানালেন বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তারা।

 

সুরুচি সঙ্ঘ
সাধারণ সম্পাদক স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, রাতে দফায় দফায় বৈঠক হয়। কী করা হবে তা নিয়ে আজ, মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ
সাধারণ সম্পাদক বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত বলেন, হাইকোর্টের রায়ের মান্যতা দিয়ে যেভাবে করা উচিত, সেভাবে করব।
কলেজ স্কোয়্যার সার্বজনীন
সাধারণ সম্পাদক বিকাশ মজুমদার বলেন, মানুষ মরিয়া হয়ে কিছু করে বসলে কী করে সামলাব?‌ কলেজ স্কোয়্যারের ক্ষেত্রে কন্টেনমেন্ট জোন অনেক বড়। প্রবেশ পথ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টো দিকে। ফলে কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে কোনটাকে মানা হবে তা প্রশাসনকে দেখতে হবে। রাস্তায় লোক হাঁটবে। তা কী করে রোখা যাবে?‌
বাগবাজার সার্বজনীন
সাধারণ সম্পাদক গৌতম নিয়োগী জানিয়েছেন, রায় মানার চেষ্টা করব। তবে দু’‌মাস আগে হলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এখন কষ্টকর। মানুষ যদি রাস্তায় বের হন তাহলে কারফিউ ছাড়া আটকানো সম্ভব নয়।
ত্রিধারা সম্মিলনী
সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস কুমার জানান, হাইকোর্টের রায় মানব। সরকার যা নির্দেশ দেবে তা মেনে পুজো হবে।
বাবুবাগান
সাধারণ সম্পাদক সরোজ ভৌমিক জানিয়েছেন, রায় অনেক আগে দেওয়া উচিত ছিল। কী সিদ্ধান্ত নেব, তা বৈঠকে ঠিক হবে।
দেশপ্রিয় পার্ক
সম্পাদক সুদীপ্ত কুমার বলেন, রায় কয়েকদিন আগে হলে সকলের পক্ষে ভাল হত। এমন সময় রায় হল, অসমাপ্ত কাজ শ্রমিকরা আর করবেন না। নতুন করে বিজ্ঞাপনের ব্যানার টাঙানো হবে না।
৬৬ পল্লী
সভাপতি রজত সেনগুপ্ত বলেন, করোনার জন্য গৃহবন্দি মানুষ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সুরক্ষাবিধি মেনে অবসাদ কাটাতে কয়েকদিনের জন্য তাঁরা উৎসবে শামিল হতে চেয়েছিলেন। সেই আশা বাধা পাবে। পুনর্বিবেচনা না হলে অনেকের কাছে এবারের দুর্গাপুজো ‘‌ব্ল্যাক ডে’‌ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। যাঁরা জনস্বার্থ মামলা করলেন, তাঁরা ক’‌টা লোকের কর্মসংস্থান করতে পারবেন?‌
বোসপুকুর শীতলামন্দির
সম্পাদক কাজল সরকার জানিয়েছেন, পুরো রায় না দেখে কিছু বলা যাবে না। রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় তা দেখে আমরা পরিকল্পনা করব।
শিবমন্দির
সভাপতি পার্থ ঘোষ বলেন, যাঁরা অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার জন্য সারা বছর বসে আছেন, তাঁরা কীভাবে অঞ্জলি দেবেন, তা বলা নেই।
বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ
সম্পাদক সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, সুরক্ষাবিধি মেনে নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিটের ৬০ শতাংশ জায়গা গাড়িতে বসে ঠাকুর দেখার জন্য ছাড়া হয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ জায়গা হেঁটে আসা দর্শনার্থীদের জন্য। সেই জায়গার কী হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাজ্য সরকারের নির্দেশাবলী মেনে সুরক্ষাবিধি মানতে মাস্ক, স্যানিটাইজার, থার্মাল গানের জন্য বহু টাকা খরচ হয়ে গেছে। সেই টাকা জলে যাবে।
কুমোরটুলি পার্ক
সভাপতি অজয় ঘোষ জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে চলব। এ বছর আমাদের খোলা মণ্ডপ। ভিড় হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
মুদিয়ালি
পুজো কমিটির সদস্য মনোজ সাহু বলেন, পাড়ার ৩৫০টি পরিবারের ১২০০ মানুষ ক্লাবের সদস্য। এর মধ্যে মাত্র ২৫ জনকে কীভাবে বাছা হবে, বুঝতে পারছি না। আগে রায় হলে ভাল হত। খরচও কমত।
টালা বারোয়ারি
সম্পাদক অভিষেক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুরীর রথ–এ যখন বিধিনিষেধ হয় তখন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। মহারাষ্ট্রের গণেশ পুজোর সময় লকডাউন চলছিল। এখন লকডাউন নেই। বাস চলছে। রাজনৈতিক মিছিল হচ্ছে। পুজোয় রাস্তায় লোক নামবেন, খাবেন, জিনিসপত্র কিনবেন। সেখান থেকে কি সংক্রমণ হবে না?‌ ক্লাবগুলো দেনায় ডুবে যাবে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে অন্তত ৫ বছর সময় লাগবে। জীবন–‌জীবিকার বড় ক্ষতি হবে।
বকুলবাগান
সম্পাদক সুমন ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছি। এখন পুজো হয় বাণিজ্যিক ভাবে। মণ্ডপে লোক না এলে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি টাকাও দেবে না।
সমাজসেবী
সাধারণ সম্পাদক অরিজিৎ মৈত্র বলেন, পুজোর সঙ্গে বহু গরিব মানুষের রুজি–‌রোজগার জড়িত। এই সিদ্ধান্ত তাঁদের ওপর অর্থনৈতিক আঘাত হানবে। সংক্রমণ বাড়ছে মূলত বাজার, দোকান থেকে। তাদের বিরুদ্ধে তো কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পুজো কমিটি অর্গানাইজড। তাই সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক কম।
দমদম পার্ক তরুণ সঙ্ঘ
সম্পাদক পৃত্থীশ রায় বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনামা মেনে কাজ করেছি। আদালতের রায় মানতে গেলে সরকারি নির্দেশনামা দরকার।
মহম্মদ আলি পার্ক
পুজো কমিটির সদস্য নরেশ জৈন বলেন, হাইকোর্টের আদেশ মানতেই হবে। বাকিটা প্রশাসন ঠিক করবে।
বড়িশা ক্লাব
পুজো কমিটির কর্তা সুদীপ পোল্লে বলেন, সরকার যা বলবে তাই করব।
৯৫ পল্লী
সভাপতি রতন দে বলেন, হাইকোর্টের রায় মানব। পরবর্তী পদক্ষেপ পরে ঠিক হবে।
সন্তোষপুর ত্রিকোণ পার্ক
সম্পাদক দেবাশিস সরকার বলেন, ১৭টি নিয়ম মেনে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা মানবিকতার বিষয়। আমরা সাবধান হচ্ছি। লোককেও সতর্ক থাকতে হবে।
৪১ পল্লী
পুজো কমিটির সদস্য দীপঙ্কর মুখার্জি বলেন, ৩০ ফুট ছেড়েই আমাদের মণ্ডপ। দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ। অসুখটাও মারাত্মক। সেই মতো সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছি।
দমদম পার্ক ভারত চক্র
সাধারণ সম্পাদক প্রতীক চৌধুরি বলেন, মণ্ডপ এলাকা ঠিক কতটা, তা পরিষ্কার নয়। পুজো পরিকল্পনার খরচের সব টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। দায়ভার কে নেবে?‌
হাতিবাগান সার্বজনীন
সম্পাদক শাশ্বত বসু বলেন, ৮০ শতাংশ পুজোই গলিতে হয়। সেখানে এই নিয়ম কী করে মানা হবে?‌ এই ধরনের পুজোয় গলির মধ্যে ঢুকলে বের হবে কী করে?‌
এসবি পার্ক
সম্পাদক সঞ্জয় মজুমদার বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবার আমাদের মণ্ডপের মুখ রাস্তার দিকে। ২৫ ফুট দূর থেকে ঠাকুর দেখার ব্যবস্থা।
অজেয় সংহতি
কোষাধ্যক্ষ অরিজিৎ নন্দী বলেন, মণ্ডপের সামনে জায়গা থাকায় আদালতের রায় মেনেই ১০ মিটার দূর থেকে ঠাকুর দেখার ব্যবস্থা রাখছি।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top