‌সব্যসাচী সরকার
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির স্পর্শে এবার বাংলায় দু্র্গাপুজো হতে চলেছে এক সুরক্ষিত এবং আনন্দের উৎসব। একদিকে করোনা প্রতিরোধে একাধিক সুরক্ষাবিধি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে পুজো উদ্যোক্তাদের একাধিক ছাড়, ৫০ হাজার টাকার অনুদান।
বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে বিভিন্ন পুজো কমিটি এবং প্রশাসনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী যখন সুরক্ষিত উৎসব এবং সরকারের পাশে দঁাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন তখন স্টেডিয়াম উল্লাস আর করতালিতে ফেটে পড়ে। এমনকী স্লোগানও ওঠে। করোনার এই ভয়ঙ্কর আবহে পুজোর উৎসব নিয়ে বাংলার মানুষ যখন কার্যত মনমরা ও হতাশ হয়ে পড়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা নতুন করে উজ্জীবিত করল। শুধু সভায় অংশগ্রহণকারীরা নয়, গোটা বাংলার মানুষই এদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল মুখ্যমন্ত্রী তাদের সবথেকে বড় উৎসবটি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন। তঁার কথা শুনে সবাই খুশি।
মুখ্যমন্ত্রী একটি কথা খুব জোরের সঙ্গে এদিন জানিয়ে দেন, উৎসব থেমে থাকবে না। উৎসব হবে। কিন্তু সবাইকে দেখতে হবে উৎসবের কারণে যেন করোনা সংক্রমণ না ছড়ায়। কিছুতেই সেটা হতে দেওয়া চলবে না। সুরক্ষাবিধি মানতে হবেই। পুজো কমিটিগুলিকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এবছর সুরক্ষার জন্য বেশি পরিশ্রম করতে হবে। পরে কেউ যেন আঙুল তুলে বলতে না পারে, উৎসবের কারণে করোনা সংক্রমিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌এই উৎসব সবার। সব ধর্মের মানুষ এই উৎসবে অংশ নেন। পুজো কমিটিগুলি এবছর স্পনসর পাবে না। চঁাদাও বেশি উঠবে না। বিজ্ঞাপনও পাবেন না। তাই আমরা যতটা পারছি, পাশে থাকব। প্রতিটি পুজো কমিটি পাবে ৫০ হাজার টাকা। দেওয়া হবে ছাড়।’‌ এদিন উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি, সুব্রত মুখার্জি, শোভনদেব চ্যাটার্জি, ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসু। ছিলেন সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি ও মালা রায়। এছাড়াও ছিলেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা এবং স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।‌
মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘এই ভয়ঙ্কর সময়কালে ‌অনেক উৎসব আগেই হয়ে গিয়েছে। একটা উৎসবও ঠিকমতো পালন করা যায়নি। সুরক্ষার জন্য ইদের নমাজও ঘরে পাঠ করতে হয়েছে। হয়নি রথযাত্রা। দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন এ রাজ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষরা। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে সব ধর্মাবলম্বী মানুষদের কাছে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সরকারের নির্দেশ মেনে তাঁরা ধর্ম পালন করেছেন। এজন্য আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে চায় দাঙ্গা–‌হাঙ্গামা লাগিয়ে দিতে। কিন্তু এ মাটি বাংলার মাটি। এখানে এ সমস্ত করা যায় না। অনেকে পুজো নিয়েও রাজনীতি করতে চায়। পুজো না হলে বলবে, পুজো করতে দেয় না, আবার করোনা সংক্রমণ বাড়লে বলবে এই কারণেই হল। কেননা, তাদের কোনও দায় নেই। সরকারের দায়িত্ব আছে।  তাই ‌পুজোর আনন্দের পাশাপাশি সতর্কও থাকতে হবে।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমার মন ভাল নেই। এমন একটা রোগ যার ওষুধ নেই। ‌কত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। চিকিৎসক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মী। আমাদের বন্ধু, পরিজনদের হারাচ্ছি। তাও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। এখন হাসপাতাল থেকে ৮৭ শতাংশ মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  ‘‌ক্লাবগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে পুজোর বিষয়টি দেখাশোনা করবে পুলিশ। এ বছর বিশ্ববাংলা পুরস্কার ভার্চুয়ালি ঘোষণা করা হবে। পুরস্কার দেওয়ার জন্য বিচারকরা বিভিন্ন মণ্ডপে যান। তাঁদের বলব সবাই একসঙ্গে যাবেন না, সকাল ১০টা থেকে ৩টে পর্যন্ত পরিদর্শন করুন। সন্ধের দিকে ভিড় থাকে। দরকার হলে ভিডিও করে, ভার্চুয়ালি দেখে বিচার করুন। নইলে স্বেচ্ছাসেবকদের সমস্যা হয়। অনেক বিদেশিরাও আসেন ঠাকুর দেখতে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌যে–‌কোনও মূল্যে ভিড় এড়াতে হবে। যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকরা ডিউটিতে থাকবেন, তাদের মাস্ক, শিল্ড, স্যানিটাইজার রাখতেই হবে। বিসর্জনের সময় সমস্ত থানার ওসি, আইসি–‌কে নজর রাখতে হবে। ঘাট ভাল করে পরিষ্কার করে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। বিসর্জন একসঙ্গে করা যাবে না। স্বাস্থ্যবিভাগকে পুজোর দিনগুলির জন্য প্রয়োজনে আলাদা স্বেচ্ছাসেবক দিতে হবে। জনসাধারণ পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে সব উৎসব যাতে ভাল করে করতে পারি সেই চেষ্টা করতে হবে।’‌ এদিন জানানো হয়, ২ অক্টোবর থেকে অনলাইনে ‘‌আসান’‌–‌এ পুজোর অনুমতির আবেদন করা যাবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌তৃতীয়া থেকে একাদশী পর্যন্ত রাতে পুজো দেখা যাবে। পুলিশ সেইভাবে ব্যবস্থা করবে। করোনা, কোভিডকে লকডাউন করে দিয়ে পুজো হবে। করোনা হেরে যাক, বাংলা জিতে যাক। মা আসছেন, মা আসবেন, সবাইকে ভাল রাখবেন।’‌
মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, এ বছর কার্নিভাল হবে না। আগামী বছর বড় করে হবে। তাঁর কথায়, পুজো হচ্ছে, হবে। সাবধানে, সুরক্ষিত থেকে। মেয়েদের পুজোয় রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ সাহায্য করবে।

‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top