কলকাতা পুলিশের তথ্যে বিহারে হদিশ বেআইনি অস্ত্র কারখানার

‌আজকালের প্রতিবেদন
মুজফ্‌ফরপুরে বেআইনি অস্ত্র কারখানার সন্ধান দিল কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্য নিয়েই বিহার পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স এক বড় অস্ত্র কারখানা খুঁজে পেল। মুজফ্‌ফরপুরের বুকে এই প্রথম এত বড় অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়া গেছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ জনকে। বাকিদের খোঁজ চলছে। কুলটি থেকে মুজফ্‌ফরপুর—‌ এই বৃত্তে এর আগে এতবড় কারখানা পাওয়া যায়নি। কিছুদিন আগে কুলটির নিয়ামতপুরে মে মাসে এক বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করেই বিহারের মুজফ্‌ফরপুরে এক বড় বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ পেল পুলিশ। নিয়ামতপুরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে এক ব্যক্তি বিয়ারিংয়ের ব্যবসা খুলেছিলেন। পরে দেখা গেল সেখানেই তৈরি হচ্ছে পিস্তলের ব্যারেল। ধরপাকড়ের পর এক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স তাকে জেরা করে। এরপরই খোঁজ মেলে কুলটি থেকে ৩৭৬ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামের ভেতর নির্মীয়মাণ ঘরে বিপুল অস্ত্র তৈরির কারখানার। কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্যেই মুজফ্‌ফরপুরের এসএসপি জয়ন্ত কান্ত দল তৈরি করেন। হানা দেন স্থানীয় বিপিন বিহারী চৌধারির বাড়িতে। সেখানে হানা দিয়ে মিলেছে ৫ হাজার অর্ধনির্মিত কার্তুজ, কয়েকশো রিভলভারের যন্ত্রাংশ, রাইফেল তৈরির যন্ত্রাংশ এবং ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস তৈরির যন্ত্রপাতি। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরে বিহারে নির্বাচন। সম্ভবত গোলমাল পাকাতে অস্ত্রের চোরাকারবারিরা কুদনি গ্রামের ওই বাড়িতে ডেরা তৈরি করেছিল। এই অস্ত্র কারখানার হদিশ পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে কলকাতা পুলিশকে। বিহার এসটিএফ এবং স্থানীয় থানা অনেক দিন ধরেই খোঁজ করছিল ওই কারখানার। রবিবার রাতে অপারেশন শুরু করে বিহার এসটিএফ। বৈশালী এবং মুজফ্‌ফরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই গ্রামটি। এই গ্রামেরই একটি সদ্য নির্মিত ইটের বাড়িতে আলো পাখা লাগিয়ে কাজ হচ্ছিল। গ্রামের লোকেরা জানতেন লেদ মেশিনের কারখানা। কিন্তু সেখানে বহু জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। বাইক এবং অটোও বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে বিহার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নগদ টাকাও পাওয়া গেছে। এই দলটি আন্তঃরাজ্য বেআইনি অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ মনে করছে। ধৃতদের বৈশালী আদালতে তোলা হয়েছে।‌