শান্তনু সিংহরায়
মুশকিল আসান ‘‌বিপুল’‌। হাজির সচেতনতার বার্তা নিয়ে। করোনা–‌আবহে সম্প্রতি কিছু ভিডিও দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
হাঁচি থেকে করোনার সংক্রমণ ছড়াতে পারে, বার বার বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বলা হচ্ছে মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তার কথা। কোনও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় প্রকাশ্যে হাঁচছেন এক ব্যক্তি। আর ওই রাস্তা দিয়েই নিশ্চিন্ত মনে হেঁটে আসছেন আরেকজন। মাস্ক ঝুলছে গলায়! তাঁর দিকে ধেয়ে আসছে ভাইরাস। দ্রুত সেখানে হাজির ‘‌বিপুল’‌। বিপুলের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক পরে নেওয়ায় বিপদ থেকে রক্ষা পান তিনি।
আরেকটি ভিডিও এমন:‌ অনেকদিন পরে দেখা দুই বন্ধুর। রাস্তায় একে অপরকে দেখে আনন্দে হাত মেলানোর জন্য এগিয়ে এসেছেন। এদিকে, এঁদের একজনকে কিছুক্ষণ আগেই দেখা গেছে টাকা গুনতে। টাকা থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা এড়াতে গোনার পর হাত স্যানিটাইজ করতে বলছেন চিকিৎসকরা। সে সব কিছুই করেননি ওই ব্যক্তি। নজর রাখছিল ‘‌‌বিপুল’‌। হাত মেলানোর আগেই তাঁদের থামিয়ে দিয়ে ‘‌বিপুল’‌ বলে উঠল, ‘‌নমস্কার করুন। দূরত্ব বজায় রাখুন। হাতটা স্যানিটাইজ করে নিন’‌।
ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে রাস্তায় বেরিয়ে ‘‌পিপল’‌–‌কে সচেতন করছে ‘‌বিপুল’‌। কাউকে নিয়ম ভাঙতে দেখলেই সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে তারা। কখনও হাতজোড় করে অনুরোধ, কখনও আবার মৃদু ধমকের সুরে নিয়ম মানার নির্দেশ। কিন্তু মানুষ কি শুনবে? এটা তো পুলিশ–‌প্রশাসনের কাজ। কে এই বিপুল?
‘‌বিপুল’‌ আসলে বিধাননগর পুলিশ। কলকাতা পুলিশ যেমন কেপি বা কপু, বিপুল হল বিধাননগর পুলিশ। সামনে আনা হয়েছে দুটি কার্টুন–‌চরিত্রকে। একজন মহিলা পুলিশকর্মী, অন্য পুলিশকর্মীটি পুরুষ। এঁরাই ‘‌বিপুল’‌। বিধাননগর কমিশনারেটের সর্বোচ্চ কর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল–সিভিক ভলান্টিয়ার, সর্বস্তরের পুলিশকর্মীর প্রতিনিধিত্ব করছেন এঁরা। করোনা ঠেকাতে কমিশনারেটের তরফে ‌এখানকার নাগরিকদের সচেতন করতে মাস্ক পরা, শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে বার বার হাত ধোয়া–‌সহ নিয়মকানুন মেনে চলতে বলছে বিপুল। তবে শুধু করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বার্তা প্রচারই নয়, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ জানিয়েছেন, মহিলাদের নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ, ট্রাফিক–‌সংক্রান্ত নানা বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা–‌সহ কমিশনারেটের পদক্ষেপ তুলে ধরবে ‘‌বিপুল’‌। ছোট ছোট ভিডিওতে তাদের দিয়ে সচেতনতার বার্তা প্রচার করা হবে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে নয়, আগামীতে হোর্ডিং এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে এয়ারপোর্ট, স্টেডিয়াম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র, রাস্তা, গার্ডরেলেও বার্তা–‌সহ দেখা যাবে বিপুলকে। কেন এত উদ্যোগ? মুকেশ বলেন, ‘‌বিধাননগর কমিশনারেট একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র, বিমানবন্দর আছে, আছে সর্বজনীন চরিত্র। এসব দিক ভেবে আমরা এর ব্র্যান্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঠিক হয়েছে লোগো হবে, হবে ম্যাস্কট। তাই বিপুল চরিত্রটিকে আনা হয়েছে। মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তুলতে চাই আমরা। এর মাধ্যমে সচেতনতামূলক নানা বার্তা দেওয়া হবে।’‌ 
বিধাননগর পুলিশ অবশ্য ইতিমধ্যেই নাগরিকদের সুবিধের জন্য নানা পদক্ষেপ করেছে। ছোটখাটো যে সব অভিযোগ জানাতে থানায় না গেলেও চলে, তা এখন কমিশনারেটের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে জানানো যায়। দেওয়া যায় তথ্য। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশই যোগাযোগ করে অভিযোগকারীর সঙ্গে। থানায় যেতে হয় না। কমিশনারেটের ফেসবুক পেজেও এখন প্রায় নিয়মিত বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে মানুষকে সতর্ক করছেন পুলিশকর্তারা, সচেতন থাকার বার্তা দিচ্ছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top