দীপঙ্কর নন্দী
‌‘‌লকডাউনের আইন ভেঙে কয়েকটি রাজনৈতিক দল বাংলায় মিটিং–মিছিল করছে। এই সময় এই ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার কোনও প্রয়োজন আছে কি?‌ আমরা তো এই বিষয়ে অনেক ছঁাটকাট করছি। আরও করব। ২১ জুলাই সভা হবে কি না, তা নিয়ে ৩ জুলাই দলের মিটিং ডেকেছি। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’‌
শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‌কাদের উদ্দেশে আমি কথাগুলো বলছি, তা সকলেই জানেন। যেখানে মানুষের পকেটে পয়সা থাকছে না, এই লকডাউনের গুরুত্ব কী?‌ বাংলায় করোনা বাড়ল তো কেন্দ্রের জন্য!‌ কোনও সাহায্য করল না। বিজেপি–‌র নেতারা বড় বড় কথা বলে গেলেন। প্রতিদিন ১০টি করে স্পেশ্যাল ট্রেন আনছে হটস্পট থেকে। রেলকে চিঠি দিয়ে বলেছি, এই ট্রেন চালানো বন্ধ করতে হবে।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য এই লকডাউনের মধ্যে কর্মসূচি নিচ্ছে। কেন্দ্র করোনা বাড়াচ্ছে। দোষ দিচ্ছে রাজ্যকে। শ্রাবণী মেলা যদি বন্ধ হতে পারে, মিটিং–মিছিল বন্ধ হবে না কেন?‌ এটাই আমি বুঝে উঠতে পারছি না। বিডিও অফিস ভাঙচুর করছে, ঘেরাও করছে, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অধিকার ওঁদের কে দিল?‌ ক্ষতি তো হচ্ছে বাংলার!‌ আসুন, এক সঙ্গে কাজ করি। মিটিং–মিছিল বন্ধ করুন। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখন কিন্তু ভাঙচুর করিনি!‌’‌
তিনি এদিন বলেন, ‘‌রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত লকডাউনের ছাড়ের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হল। রাত ৯টার মধ্যে অনেকেই কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। অসুবিধা হচ্ছে তঁাদের।’‌ মমতার অভিযোগ, ‘‌গায়ের জোরে যা খুশি তাই করা হচ্ছে। রাজ্য দখল করার চেষ্টা। যা আমরা কোনও দিনই হতে দেব না।’‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এমনিতেই মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। মিটিং–মিছিল করে তঁাদের বিড়ম্বনায় ফেলতে চাই না।’‌ 
এরই মধ্যে তৃণমূল ভিডিও কনফারেন্স করে জেলায় জেলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছে। আজ, শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই সব জেলার তৃণমূল সভাপতি নিজেদের এলাকায় সাংবাদিক বৈঠক করবেন। করোনা, আমফান নিয়ে বিজেপি–‌র চূড়ান্ত অসহযোগিতার বিরুদ্ধে তৃণমূল জেলা সভাপতিরা বলবেন। কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী একক প্রচেষ্টায় করোনা এবং আমফানের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, সেই তথ্য তুলে ধরা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌লকডাউনের মধ্যে পেট্রোল–‌ডিজেলের দাম যে ১৯ বার বাড়ানো হল, এতে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দেবে। মানুষের আয় এখন কমে গেছে। ভয়ানক পরিস্থিতি। তাই কেন্দ্রের কাছে আবেদন, জ্বালানির দাম আর বাড়াবেন না।’‌

 

‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top