মিল্টন সেন
হুগলি, ১৯ সেপ্টেম্বর

সিঙ্গুরের তাল ভোমরার মাঠে হবে একটি কৃষিভিত্তিক শিল্প হাব। বুধবার রাজ্য কিসান খেতমজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচিতে এই শিল্প হাবের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। একইসঙ্গে ঘোষণা করেন ওই হাবের অন্তর্ভুক্ত কৃষি সম্পর্কিত একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা। সিঙ্গুরের টাটা প্রকল্পের ঠিক উল্টোদিকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া এলাকায় প্রস্তাবিত এই কৃষিভিত্তিক শিল্প হাব গড়া হবে। আপাতত ওই এলাকার ১০.১০ একর জমিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষি সহায়ক বেশ কয়েকটি ছোট–‌বড় শিল্পকে এই কৃষিভিত্তিক শিল্প হাবের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। থাকবে ৩ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি হিমঘর। এই হিমঘরে সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। সাধারণত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে সবজি মাঠ থেকেই অল্প দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন কৃষকেরা। ফলে অনেক সময় চাষের খরচই ওঠে না। সিঙ্গুরের গোপালনগর ঘোষপাড়ার কৃষক নবকুমার ঘোষ জানিয়েছেন, সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা হলে কৃষকরা এই লোকসানের হাত থেকে বাঁচবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাজেমেলিয়া গ্রামের কৃষক শ্যামাপদ কোলে। তিনি বলেছেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা হলে আর মাঠেই লোকসানে সবজি বিক্রি করার প্রয়োজন হবে না। চাষিরা লাভের মুখ দেখতে পাবেন।
এছাড়াও প্রস্তাবিত হাবে থাকছে ওয়্যার হাউস এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বিভাগের একাধিক প্রকল্প। ওয়্যার হাউসে বিপুল পরিমাণ কৃষিজ পণ্য মজুতের ব্যবস্থা থাকবে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পগুলিও ওয়্যার হাউসের সুবিধে পাবে। মাঠ থেকে ধান কেটে নেওয়ার পর জমিতে পড়ে থাকা নাড়াকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা উপকৃত হন এমন কোনও প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ধান কাটার পর সেই নাড়া জমি খুঁড়ে আর তোলা হয় না। কৃষকরা আগুন লাগিয়ে তা পুড়িয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, জমিতে থাকা নাড়া আগুন লাগিয়ে পোড়ালে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। আগুন লাগানোর ফলে পরিবেশও দূষিত হয়। তাই সেই নাড়া না পুড়িয়ে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। ওই খড় কৃষকদের উপকারে লাগে এমন কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করতে হবে। হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কৃষি শিল্প হাবের পরিকল্পনা নিয়ে জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা রূপায়ণের প্রশাসনিক কাজকর্ম দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। প্রকল্প বাস্তব রূপ পেলে কৃষকদের সুবিধে হবে, বহু মানুষ কাজ পাবেন। 
বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়া এলাকায় ৩০ একর জমি এখনও চাষের অযোগ্য থাকায় প্রকল্প এলাকার সমস্ত জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, ওই ৩০ একর জমি এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে ওই জমি আগাছায় ভরে রয়েছে। নির্ধারিত জমির কৃষকরা চাষ করতে পারছেন না। এ নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। জমি ফেরানোর প্রসঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশে খুশি বাজেমেলিয়া গ্রামের কৃষকরা বলেছেন, জমি চাষযোগ্য করে সীমানা নির্ধারণ করে দিলেই তাঁরা চাষের কাজ শুরু করবেন।

জনপ্রিয়

Back To Top