‌‌প্রয়াত অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়

আজকালের প্রতিবেদন
বৃহস্পতিবার সকালে বাগুইআটির এক নার্সিংহোমে প্রয়াত অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়।

নাট্যদল ‘‌নান্দীকার’‌–‌এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট নট, নির্দেশক ও নাট্যকার নার্সিংহোমে ভর্তি হন গত মাসের মাঝামাঝি। কোভিড আক্রান্ত হলেও সেরে উঠেছিলেন। কিন্তু এরপরই অন্য শারীরিক সমস্যায় ভেন্টিলেশনে দিতে হয় তঁাকে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৪।
অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাট্যজীবনের প্রথম অংশে গ্রুপ থিয়েটার, পরের অংশে যাত্রা। ‘‌বহুরূপী’‌ নাট্যদলে শিক্ষানবিশি শেষ করে বন্ধু অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপেন্দ্র সেনগুপ্ত, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের সঙ্গে তৈরি করেন ‘‌নান্দীকার’‌। সংগঠনের ভার সামলে অভিনয়ও করতেন। উল্লেখযোগ্য অভিনয় ‘‌তিন পয়সার পালা’‌ বা ‘‌শের আফগান’‌ নাটকে। পরে চাকরি সূত্রে চলে যান উত্তরবঙ্গে। শুরু হয় যাত্রা লেখা। এই পর্বে সাফল্যের শুরু ‘‌ডাইনি’‌ পালা দিয়ে, যা ছিল জোন অফ আর্কের জীবনের ওপর লেখা। এরপর ‘‌পাগলা রাজা’‌ মহম্মদ বিন তুঘলককে নিয়ে। সাফল্য অব্যাহত থাকে পরপর ‘‌কুরবানি’‌, ‘‌বিল্বমঙ্গল’‌, ‘‌বিদ্যাসুন্দর’‌, ‘‌হীরাঝিলের কান্না’‌ থেকে ‘‌বণিকবাড়ির বৌ’‌ পর্যন্ত। মাঝে স্বপনকুমারের জন্য লিখেছিলেন ‘‌সন্ন্যাসী রাজা’‌, কিন্তু নানা জটিলতায় তা মঞ্চস্থ হয়নি। যাত্রায় অবশ্য অসিতবাবু অভিনয় করেননি কখনও। বরং অভিনয় করেছেন বড় পর্দায় মৃণাল সেনের ‘‌কোরাস’‌ ছবিতে। এই অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন বিএফজেএ পুরস্কারও। ১৯৮৪ সালে শ্রেষ্ঠ যাত্রা নির্দেশকের সম্মান পান রাজ্য সরকারের কাছ থেকে।

আকর্ষণীয় খবর