তাপস গঙ্গোপাধ্যায়—চতুর্থী থেকে দশমী, এই সাতটি দিন পাড়ার রাস্তায় স্টল ভাড়া দিয়ে এক একটা বড়পুজোর রোজগার হয় কমপক্ষে ২০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। যে–‌সব পুজোর স্টল সাত–‌আট বছর আগে ৪০০০ থেকে ৫০০০ ছিল, তাই আজ বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তাপস দাস। বয়স ৩৫। থাকেন মধ্যমগ্রামে। মানুষটি নেসকাফের ডিসট্রিবিউটরের হয়ে স্টল চালান। এ বছর স্টল নিয়েছেন চারটি— কসবায় বোসপুকুর শীতলা মন্দিরে একটি, টালিগঞ্জের নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘে দুটি এবং বেহালা নতুন দলে একটি। তাঁর কথায়, বোসপুকুরে ওই ৭ দিনের জন্য ছ’‌ফুট বাই আট ফুট স্টলের ভাড়া বিশ হাজার। উদয়ন সঙ্ঘে ত্রিশ হাজার করে, নতুন দলেও ত্রিশ হাজার। মোট চারটি স্টলের ভাড়া নগদ গুনতে হয়েছে এক লক্ষ দশ হাজার।
নেসকাফের স্টলে মিলবে ঠান্ডা, গরম সব রকম নাম ও দামের কফি, ‌সঙ্গে মিনারেল ওয়াটারের সিলড বটল। ‌এই সাতদিন স্টল মালিকদের কোনও ফুরসত নেই। রাত জেগে খদ্দের তুষ্ট করা। কর্মচারীদের খাওয়া–‌দাওয়া এবং পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করা। সেই সঙ্গে প্রতি স্টলের স্টক সময়মতো ডিস্ট্রিবিউটরের ঘর থেকে আনার ব্যবস্থা করা।
আর বড়পুজোয় রাস্তার অনেকখানিই থাকে পুজো কমিটির হাতে। ছোট, মাঝারি থেকে বিরিয়ানি, ভাতের বা রুটি–‌তড়কার বসে খাওয়ার বড় স্টলও থাকে বেশ কয়েকটি। শুধু পানীয়ের যেমন নেসকাফে বা কোকাকোলা বা পেপসি কোলার যেমন ছোট স্টল হলেই চলে, খদ্দের দাঁড়িয়ে খেয়ে দাম চুকিয়ে চলে যান। খাবারের দোকান বা রেস্তোরাঁ হলে কম করেও ৮ থেকে ১২টি টেবিল এবং টেবিল পিছু কমপক্ষে দুটি চেয়ার থাকে। সে ক্ষেত্রে ছোট স্টলের তুলনায় দেড় থেকে দু’‌গুণ ভাড়া পুজো কমিটি আদায় করে। অর্থাৎ ২০ হাজারের স্টলই তখন বেড়ে হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার। ৩০ হাজারি হয় ৪৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সঙ্গে কর্মচারীদের মাইনে, রান্নার তাবৎ উপকরণ, জ্বালানি। এক একদিনে খাবারের স্টলের মালিকের খরচ ১০ থেকে ২০ হাজার। কিন্তু গায়ে লাগে না। পুজোর সময় উৎসবের মেজাজে মানুষ ঠাকুর দেখার আনন্দে খরচকে খরচই মনে করে না।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top