আজকালের প্রতিবেদন- কলকাতায় ফের অঙ্গদানের নজির। ৪ জন মুমূর্ষু রোগী নবজীবন ফিরে পেলেন। এস এস কে এম হাসপাতাল এবারেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করল অঙ্গদানের ক্ষেত্রে। ব্রেনডেথ হওয়া ব্যক্তির হার্ট, দু’‌টি কিডনি ও লিভার দান করা হয়। মেডিকা সুপারস্পশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি ৪০ বছরের এক রোগীকে দেওয়া হয় লিভার। অস্ত্রোপচার সফল হলেও সিসিইউ–তে গ্রহীতাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কর্নিয়া ও ত্বকও দান করা হয়েছে। 
অঙ্গদাতা পূর্ব মেদিনীপুরের ভাজাচাউলির বাসিন্দা ৪৫ বছরের স্বপন হাজরা। ৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে মোটরবাইকে তিনি যাচ্ছিলেন। দৈসাই এলাকায় আচমকা দুর্ঘটনা ঘটে। স্বপন বাইকের মাঝখানে বসেছিলেন। স্বপনের মাথায় গুরুতর চোট লাগে। আরও এক বাইক–আরোহীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।  স্বপনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে রেফার করা হলে এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয়। ট্রমা কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। স্বপনের অন্য এক বন্ধুও এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন। ১১ তারিখ শনিবার চিকিৎসকেরা স্বপনের ব্রেনডেথ হয়েছে বলে পরিবারকে জানায়। পেশায় রাজমিস্ত্রি স্বপন পরিবারের একমাত্র অর্থ উপার্জনকারী। তাঁর বাড়িতে স্ত্রী, ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। স্বপনের ব্রেনডেথের খবরে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। এরপর চিকিৎসকেরা অঙ্গদানের বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের জানান। আলোচনার পর পরিবারের তরফে অঙ্গদানের বিষয়টি রবিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাতেই শুরু হয় দাতার শরীর থেকে অঙ্গ সংগ্রহের কাজ। এসএসকেএমে সোমবার ভোররাতে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। শেষ হয় সকাল ৮টা নাগাদ। দাতার ভাই সুরজিৎ হাজরা জানান, প্রিয়জনকে হারালেও অন্য কারও মধ্যে তাঁর দাদা বেঁচে থাকবেন এই ভেবে অঙ্গদানের সম্মতি দেন।  
স্বপনের হার্ট, দু’‌টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় এসএসকেএমে। প্রথমে হার্ট সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের কার্ডিওথোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগে।  ৪০ মিনিট পর দু’‌টি কিডনি নিয়ে যাওয়া হয় নেফ্রোলজি বিভাগে। স্বপনের হার্ট পান মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা ৩৮ বছরের মসলিমা বিবি। দাতার একটি কিডনি পান ৩০ বছরের মহিলা হলদিয়ার বাসিন্দা সুচেতা মাইতি। অপর কিডনিটি পান ভদ্রেশ্বরের ২৫ বছরের যুবক সৌরভ নাথ। হাসপাতালে রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশনে নাম লেখানোর পর অঙ্গদাতার অপেক্ষায় ছিলেন। এদিন ভোর ৪টে নাগাদ লিভার সংগ্রহ করে মা উড়ালপুল হয়ে গ্রিন করিডরে নিয়ে যাওয়া যায় মেডিকায়। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। মেডিকার তরফে জানানো হয়, গ্রহীতার অ্যাকিউট লিভার ফেলিওর ছিল। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ব্লিডিং, সিভিয়ার জন্ডিসে ভুগছিলেন। লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জেন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ও অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের সহযোগিতায় প্রতিস্থাপন সফল হয়।

স্বপন হাজরা

জনপ্রিয়

Back To Top