নাক–কান–গলার অস্ত্রোপচারে নয়া প্রযুক্তি, নজির গড়ল এসএসকেএম 

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নজির গড়ল কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল। পূর্ব ভারতে প্রথম ‘3D Endoscopy’–র সাহায্যে অস্ত্রোপচার হল এই হাসপাতালে। থ্রি ডি মনিটরের স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে রোগীর কানের অভ্যন্তরীণ জায়গা। থ্রি ডি গগলস পরে রয়েছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার দেখে মনে হচ্ছে মাল্টিপ্লেক্সের থ্রি ডি থিয়েটার।
কিছুদিন আগেই ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তিতে কানের স্টেপিডোটমি অস্ত্রোপচার করলেন এসএসকেএম হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব অটোরাইনোল্যারিঙ্গোলজি এবং হেড নেক সার্জারির শল্য চিকিৎসক অরিন্দম দাস। প্রথম এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই পূর্ব ভারতে পা রাখল থ্রি ডি এন্ডোস্কোপি। শরীরের ক্ষুদ্রতম হাড় স্টেপিস থাকে কানের অভ্যন্তরে। সবংয়ের বাসিন্দার সেই হাড়ই স্থবির হয়ে গিয়েছিল। শুনতে পাচ্ছিলেন না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সূক্ষ্ম ওই হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতিতে রোগীর কানে ঢুকে যাচ্ছে নল। সেখানে লাগানো ক্যামেরা। থ্রি ডি এন্ডোস্কোপি প্রক্রিয়ায় একটার জায়গায় সেখানে দুটো ক্যামেরা। থ্রি ডি মনিটরে ত্রিমাত্রিক ছবি ভেসে ওঠে। সার্জনদের পরতে হয় থ্রি ডি গগলস। যে ছবি ভেসে ওঠে তা আগের তুলনায় অনেক স্পষ্ট। ছবি ত্রিমাত্রিক হওয়ার তা অত্যন্ত নিখুঁতও। ফলে অস্ত্রোপচার করতে অনেক সুবিধা হয় চিকিৎসকের।
থ্রি ডি এন্ডোস্কোপি দ্বিতীয়বার ব্যবহার হল শনিবার। বছর চল্লিশের এক মহিলার কানের পর্দা সারিয়ে তোলার জন্য। সে অস্ত্রোপচারের নাম টিমপ্যানোপ্লাস্টি। কানের পর্দা ফুটো হয়ে গিয়েছিল মহিলার। সংক্রমণ হচ্ছিল ওই জায়গায়। পুঁজ পড়ত। পূর্ব ভারতে প্রথম থ্রি ডি এন্ডোস্কোপি ব্যবহার করে সারানো হল কানের পর্দা। নজির গড়ল এসএসকেএম। চিকিৎসকরা বলছেন, থ্রি ডি যন্ত্র ব্যবহারের ফলে অস্ত্রোপচারের সময়ে এবং পরে সমস্যা, ঝুঁকির আশঙ্কাও অনেক কম। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই যন্ত্রটির দাম প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা।