জলমগ্ন শহরেও হাতে হাতে খাবার প্যাকেট, সৌজন্যে শ্রমজীবী ক্যান্টিন

শ্রাবণী গুপ্ত: ভোটে ভরাডুবি। রাজ্য বিধানসভায় নেই কোনও প্রতিনিধি। এমনকি, এই ফলাফলের পরে দলের অন্দরে বিস্তর কাটাছেড়া চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটা রাজনৈতিক দল না রামকৃষ্ণ মিশন? কেউ আবার বলছেন, ভোটই যদি জুটল না তো এসব সমাজসেবা করে কী লাভ? এতকিছুর মধ্যেই ৪০০ দিন পেরিয়ে এখনও শ্রমজীবী ক্যান্টিন  চলছে যাদবপুরে। সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী হেরে গেছেন। তাও ক্যান্টিন চলছে। 

তবে আজ সকাল থেকে পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। ঘুম ভেঙে শহর দেখেছে চারদিকে জল থৈ থৈ। একদিকে বর্ষা আর সঙ্গে জোয়ার ভ্রুকুটি। উত্তরের আমহার্স্ট স্ট্রিট থেকে দক্ষিণের বাঘাযতীন, ছবি প্রায় একই রকম। করোনা আবহে স্কুল বন্ধ। রাস্তায় নেই বাস, ট্রাম, অটো। রাজপথ থেকে অলি গলি জল জমে আছে। এর মধ্যেই কোথাও হাঁটু জল, কোথাও আবার কোমর জল ভেঙে হাতে হাতে পৌঁছল খাবারের প্যাকেট। 

যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিনের আজ ছিল ৪৪০ দিন। এলাকার সিপিএম নেতা সুদীপ সেনগুপ্ত aajkaal.in-কে বললেন, ‘একটানা চলছে এই ক্যান্টিন। এই মুহূর্তে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ জন মানুষ এই ক্যান্টিন থেকে খাবার সংগ্রহ করেন। অঞ্চলের একেবারে নিঃসহায় ৬৫ জন মানুষকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়। বাকি সকলেই মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে এই প্যাকেট সংগ্রহ করতে পারেন।’

মজার কথা হল, অসংখ্য মানুষের সহযেগিতায় চলা এই ক্যান্টিনে কোনওদিন নিরামিষ খাবার থাকে না। কম খরচে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে রান্না ডিম/মাছ/ মাংস, তার সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে ভাত ও তরকারি দিয়ে প্রতিটি প্যাকেট তৈরি হয়। আমফানের দিন বা ইয়াসের দিনের মতো আজও ভয়ঙ্কর বৃষ্টির জন্য পুরো যাদবপুর প্রায় জলমগ্ন। হাঁটু পরিমাণ জল প্রায় সর্বত্র। কিন্তু তার মধ্যেও যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন যথারীতি দাঁড়িয়েছে মানুষের পাশে।

আজকের মেনুতে ছিল ভাত, পাঁচমিশালি তরকারি, ডিমের ঝোল। হোম সার্ভিসও চালু হয়েছে ইদানিং। 
আজ সেই হোম সার্ভিসের সুযোগ নিলেন অঞ্চলের অজস্র সাধারণ মানুষ। ক্যান্টিনের রেড ভলান্টিয়াররা কোভিডে আক্রান্ত মানুষদের বাড়িতেও খাবার পৌঁছে দিলেন বৃষ্টি মাথায় নিয়েই। কলকাতা পুরসভার ৯৬, ৯৭, ৯৯, ১০০, ১০১ ও ১০২ ওয়ার্ডের বহু গলিতে এদিন খাবার জুটল জমা জলে ঘরে আটকে থাকা মানুষের।