আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এমন বহু বাঙালি রয়েছেন, যাঁরা প্রতি বছর পুজোয় অন্তত একবার শোভাবাজার রাজবাড়িতে ঢুঁ দেবেন। এ রকমই হাজার হাজার দর্শনার্থী বছরের এই চারটি দিন ভিড় করেন রাজা নবকৃষ্ণ দেবের পুজোয়। তাঁদের জন্য এবার দুঃসংবাদ। করোনার আবহে এ বছর দর্শনার্থীদের আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না শোভাবাজর রাজবাড়িতে। পুজোয় উপস্থিত থাকছেন শুধুই পরিবারের সদস্যরা। 
১৭৫৭ সালে এই পুজো শুরু হয়েছিল। সে বছরই ইংরেজদের কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ–উদ–দৌল্লা। ওই বছরই কলকাতায় প্রথম পারিবারিক দুর্গাপুজো শুরু করেন রাজা নবকৃষ্ণ দেব।
ইংরেজদের বিশেষ প্রিয় ছিলেন রাজা নবকৃষ্ণ। তিনি নিজের পুজোতে প্রতি বছরই সাহেবদের আমন্ত্রণ জানাতেন। শোনা যায়, এই পুজো দেখতে এসেছিলেন খোদ লর্ড ক্লাইভ। রাজা নবকৃষ্ণ দেবের এই পুজো দেখে অনুপ্রাণিত হতে থাকেন কলকাতার নব্যবণিক শ্রেণী তথা উঠতি বড়লোকেরা। তার পর অনেক বনেদি পরিবারই ধীরে ধীরে দুর্গাপুজো শুরু করেন। 
প্রথমে বলি দেওয়া হত এই পুজোয়। কিন্তু রাজা ছিলেন অহিংস মতবাদী। তাই তিনি নিজেই বলি বন্ধ করালেন। পরিবর্তে আখ, কুমড়ো বলি দেওয়া শুরু হয় পুজোয়। এখনও এই রীতি রয়েছে। এই পরিবারে দুর্গা বৈষ্ণবী মা। তাই তাঁকে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয়। তবে এই পরিবারে খিচুড়ি, পোলাও ভোগ দেওয়ার রীতি নেই। পরিবর্তে মিষ্টি, ডালভরা সিঙারা ইত্যাদির ৫৭ ভোগ দেওয়া হয়। 
শোভাবাজার রাজবাড়িতে আজও প্রতিমা একচালার। প্রথম দিনের মতোই তালপাতায় লেখা পুঁথি পড়ে পুজো করা হয়। রীতি–নীতি আজও অপরিবর্তিত। এসব এত দিন না দেখে থাকলে সমস্যা নেই। আর একটা বছর অপেক্ষা করুন। তাহলেই হবে ইচ্ছেপূরণ। 

জনপ্রিয়

Back To Top