আজকালের প্রতিবেদন: বৃদ্ধাশ্রম নয়। জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে প্রয়োজনীয় সব কিছুর আয়োজন এবং সেই সঙ্গে সমবয়সীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব। নাম ‘‌স্নেহদিয়া’‌। নিউ টাউন অ্যাকশন এরিয়া ১–‌এ ১০তলার এই আবাসনটি গড়ে তুলেছে হিডকো। রয়েছে আধুনিক সমস্ত কিছুর আয়োজন। বিনোদন থেকে শুরু করে আপৎকালীন প্রয়োজনের যাবতীয় বন্দোবস্ত। পরিজনেরা যদি দেখা করতে আসতে চান, তঁাদের জন্যও থাকার জায়গা। মঙ্গলবার এই আবাসনটির উদ্বোধন করলেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ছিলেন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব, হিডকো–‌র চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন, নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব সুব্রত গুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও আন্দামানের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার চিফ জেনারেল ম্যানেজার আর মিশ্র প্রমুখ। 
এদিন ফিরহাদ বলেন, ‘‌আমি কখনও বৃদ্ধাশ্রম বলি না। বরং এটা হল জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার একটা জায়গা। আমি এবং আমার স্ত্রী‌কে যেহেতু কর্মব্যস্ত থাকতে হত, তাই আমার মা বলেছিলেন তঁাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিতে। কারণ তিনি একাকিত্বে ভুগছিলেন। আমি ‌নবনীড়‌–এ সকালে মা‌কে দিয়ে আসতাম। সেখানে মা সারা দিন তঁার সমবয়সীদের সঙ্গে গল্প করতেন। সন্ধেবেলায় মা‌কে আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হত। এই স্নেহনীড়ের ব্যবস্থা অত্যন্ত আধুনিক। আমার আপশোস, যদি রাজনীতি না করতাম, তা হলে বৃদ্ধ বয়সে এখানেই থেকে যেতাম।’‌ দেবাশিস সেন বলেন, ‘‌স্নেহদিয়া নামটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিয়েছেন।’‌
এদিন মন্ত্রী দুটি পরিবারের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন এবং আটজনের হাতে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ তুলে দেন। আবাসনটিতে ঘর রয়েছে ১৪৭টি। যার মধ্যে ৯০টি সিঙ্গল এবং ৫৭টি ডাবল–‌বেডেড রুম। সিঙ্গল রুম নিতে গেলে প্রাথমিক জমা দিতে হবে ২৫ লক্ষ বা ৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। মাসিক ভাড়া ২৫ লক্ষের ক্ষেত্রে ১৬ হাজার এবং ৯ লক্ষ ২০ হাজারের ক্ষেত্রে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা। আবার ডাবলের ক্ষেত্রে জমা দিতে হবে ৪৫ লক্ষ বা ১৬ লক্ষ টাকা। ৪৫ লক্ষ জমার ক্ষেত্রে মাসিক ভাড়া ২২ হাজার ৭৯৫ এবং ১৬ লক্ষের ক্ষেত্রে ৩৯ হাজার টাকা। খাওয়া, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার জন্য কোনও আলাদা খরচ নেই। আছে ব্যায়ামের বন্দোবস্ত। কেউ যদি ছেড়ে যেতে চান, তবে সিঙ্গলের ক্ষেত্রে ৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হবে না। আবার ডাবলের ক্ষেত্রে ১১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য নয়। ঘরগুলি বাতানুকূল। আছে সিসিটিভি। প্রতিটি ঘরে আছে ‘‌প্যানিক বাট্‌ন’‌। দিনে ৮ ঘণ্টা একজন চিকিৎসক থাকবেন। সারাক্ষণের জন্য আছে আয়া এবং অ্যাম্বুল্যান্সের বন্দোবস্ত। বাড়িটিতে ছড়িয়ে আছে সত্যজিৎ রায়ের নির্মিত সিনেমা থেকে ’‌৬০ আর ’‌৭০ দশকের হিন্দি এবং বাংলা সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্যের ছবি। থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম হিডকো বা অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক থেকে কিনে আবেদন জানাতে হবে। যদি আবেদনকারীর সংখ্যা ঘরের থেকে বেশি হয়, তবে লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top