আজকালের প্রতিবেদন: কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক ভাস্কর দাসকে চড় মারার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেওয়ার পথে কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেটের বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে যান উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী ব্যানার্জি। ভাস্করবাবুকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এদিনই আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় গোটা ঘটনাটি জানিয়ে অভিযুক্ত ছাত্র গৌরব দত্ত মুস্তাফির নামে এফআইআর করেছেন ভাস্করবাবু। বিষয়টি রাজ্য মানবাধিকার কমিশনেও জানিয়েছেন। উপাচার্যের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন। 
এদিন সহ–‌উপাচার্য (‌‌অর্থ)‌‌ মীনাক্ষী রায়কে নিয়ে রাজাবাজার ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য। বিজ্ঞান সচিব অমিত রায়ের ঘরেই তিনি ভাস্করবাবুর সঙ্গে কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তির ডিন এবং বিভাগের শিক্ষকরাও ছিলেন। ঘটনাটি উপাচার্যকে বলার সময় কার্যত ভেঙে পড়েন ভাস্করবাবু। তিনি বলেন, মিটমাট নয়, স্থায়ী সমাধান চান। উপাচার্য তাঁকে আশ্বাস দেন। পরে উপাচার্য বলেন, ‘‌এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতেই হবে। আমি একা কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। ১৬ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেটের বৈঠক ডেকেছি। যে যা খুশি করে পার পাবে, তা হবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।’‌ কিছুদিন আগেই পিএইচডি তালিকা নিয়ে পড়ুয়া বিক্ষোভের মাঝে পড়ে আঘাত পেয়েছিলেন উপাচার্য। তাঁকে ধাক্কা মারা হয়েছিল। সেই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‌ভাস্করবাবুর মানসিক যন্ত্রণা, অপমান আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছি। কারণ আমিও এর মধ্যে দিয়ে গেছি। ৭ দিন অসুস্থ ছিলাম। বারবার একই ঘটনা ঘটতে পারে না। কেউ চড় মারবে, কেউ ধাক্কা মারবে, এটা চলতে পারে না। এটা বন্ধ করতেই হবে।’‌ 
মঙ্গলবার ওই বিভাগের ফেল করা পড়ুয়াদের পাশের দাবিতে বিক্ষোভের মাঝেই ভাস্করবাবুকে বায়োফিজিক্স বিভাগের গবেষক এবং টিএমসিপি নেতা গৌরব চার–পাঁচটা চড় মারে বলে অভিযোগ। ভাস্করবাবুর বাঁ কানে চড়া মারা হয়। তাঁকে অকথ্য ভাষায় অপমান করা হয়। চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। বাঁ কানে এক্স–‌রে এবং সিটি স্ক্যান করতে বলা হয়েছে তাঁকে। ইএনটি বিশেষজ্ঞ দেখাতে বলা হয়েছে বলেও জানান ভাস্করবাবু। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটার পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ছাত্রের শাস্তির দাবিতে উপাচার্য এবং বিজ্ঞান সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। শিক্ষক সংগঠন আবুটার সভাপতি তরুণকান্তি নস্কর গোটা বিষয়টি জানিয়ে রাজ্যপাল এবং আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকে চিঠি দিয়েছেন। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top