শীতলকুচি, দ্বিতীয়বার জেরা করা হল কোচবিহারের প্রাক্তন পুলিশ সুপারকে

বিভাস ভট্টাচার্য

শীতলকুচির ঘটনায় ফের জেরা করা হল কোচবিহারের প্রাক্তন পুলিশ সুপার দেবাশিস ধরকে। মঙ্গলবার ভবানী ভবনে তাঁকে জেরা করেন সিআইডির আধিকারিকরা। এর আগে গত ১৮ জুন তাঁকে জেরা করেছিলেন সিআইডির অফিসাররা। সেদিনের মতো এদিনও গোটা জেরা পর্বটির ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে সাসপেনশনে আছেন কোচবিহারের এই প্রাক্তন পুলিশ সুপার। 
এবিষয়ে সিআইডির এক আধিকারিক বলেন, ঘটনার দিন শীতলকুচিতে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল এবং সেই বিষয় এবং একইসঙ্গে পুলিশ সুপারের ভূমিকা প্রসঙ্গেও দেবাশিস ধরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। সিনিয়র অফিসাররা তাঁকে জেরা করেছেন। তাঁর আগের দিনের বক্তব্য এবং মঙ্গলবারের বক্তব্য, দুটি বক্তব্যই মিলিয়ে দেখা হবে। আগামীদিনে ফের পুলিশ সুপারকে ডাকা হবে কি না সেবিষয়ে এখনও কিছু ঠিক হয়নি বলেই ওই আধিকারিক জানিয়েছেন।
 
গত ১০ এপ্রিল রাজ্যে চতুর্থ দফার ভোট চলাকালীন কোচবিহার জেলার শীতলকুচির জোর পাটকি গ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মারা যান চারজন গ্রামবাসী। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব জেলা পুলিশের হাতে থাকলেও পরে এই তদন্তের দায়িত্বে আসে সিআইডি। সিআইডির ডিআইজি (স্পেশাল)’‌র নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সিট বা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তৈরি করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানার অফিসার এবং ঘটনার দিন উপস্থিত গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ড্রোনের সাহায্যে ঘটনাস্থলের ছবি তুলেছেন। ইতিমধ্যেই জেরা করতে চেয়ে  ওইদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের পাঠাতে অনুরোধ করে তাঁদের উপরওয়ালাদের অনুরোধ করেছে সিআইডি। 
ভোটকেন্দ্রটির ব্যবস্থা হয়েছিল একটি স্কুলে। স্কুলের যে ঘরটির সামনে গুলি চালানো হয়েছিল সেই ঘরটির মধ্যে ব্ল্যাকবোর্ডের গায়ে একটি দাগ দেখে সিআইডির সন্দেহ হয় সেটি গুলির দাগ। সেক্ষেত্রে বাইরে থেকে ঘরের ভেতরে গুলি করা হয়েছিল। এরপর সেটি পরীক্ষা করতে কলকাতা থেকে স্টেট ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি’‌র একটি দল শীতলকুচি যায়।