ডিজিটাল শিক্ষার আওতায় আনতে হবে সব পড়ুয়াকে: সত্যম রায়চৌধুরী

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঘুচাতে হবে বিভেদ।

দিতে হবে সব পড়ুয়ার হাতে ডিজিটাল সুবিধাযুক্ত যন্ত্র। যার সাহায্যে সে এগিয়ে যেতে পারবে শিক্ষার জগতে, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে। দেশে শিক্ষার প্রসার এবং সেই সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে শনিবার বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যাণ্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত পঞ্চম 'দ্য কনভার্জিং এডুকেশনাল হরাইজন' শীর্ষক কনক্লেভে একথা বলেছেন সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির (এসএনইউ) আচার্য এবং চেম্বারের এডুকেশন কমিটির চেয়ারপার্সন সত্যম রায়চৌধুরী। অতিমারি করোনার জন্য গত দু'বছর ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

সময়াভাবে আসতে না পেরেও এই কনক্লেভের সাফল্য কামনা করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: সুভাষ সরকার। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই ধরনের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। 

এদিন বিশেষ ভাষণে এসএনইউ'র আচার্য বলেন, 'করোনার পর আমাদের সামনে অনেক বিষয়ই উঠে এসেছে। নতুনভাবে পথ তৈরি করার জন্য এই সময়টা চ্যালেঞ্জিং। আজকে চেম্বারের এই অনুষ্ঠানে সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে। মনে রাখতে হবে করোনার সময় দেশে ৩.৫ মিলিয়ন পড়ুয়া স্কুল ছেড়ে দেয়। বেড়ে গেছে শিশু শ্রমিক ও বাল্য বিবাহের সংখ্যা।‌' 

কনক্লেভটি সাজানো হয়েছে জাতীয় শিক্ষা নীতির ওপর ভিত্তি করে। স্বাগত ভাষণে জানিয়েছেন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট এবং এক্সাইড ইনডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও সুবীর চক্রবর্তী। তিনি বলেন, 'কারিগরি শিক্ষা হল এবছরের আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।' 

রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট (২০২১-২২) শেখর মেহতা তুলে ধরেন কীভাবে হাতে কলমে শিক্ষা একজন শিশুকে বিষয় সম্পর্কে আরও বেশি উৎসাহী এবং শিক্ষিত করে তোলে। দেশে শিক্ষার প্রসারে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের তরফে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে সেই বিষয়গুলিও উল্লেখ করেন তিনি। 

জেআইএস ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যাণ্ড রিসার্চ-এর ডিরেক্টর পদ্মশ্রী অধ্যাপক ড: অজয়কুমার রায় একদিকে যেমন জোর দিয়েছেন বিশ্লেষণমূলক চিন্তায় তেমনই গুরুত্ব দিয়েছেন কাজের ক্ষেত্রে একসঙ্গে এগিয়ে চলার। শিক্ষার বিষয় যে এখন আর শুধুমাত্র একটি দেশের মধ্যে আটকে নেই এদিন সেই বিষয়টি তুলে ধরেন সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর পদ্মভূষণ বিজ্ঞানী ড. বিকাশ সিনহা। তিনি বলেন, 'প্রত্যেকটি শিক্ষাই হতে হবে আন্তর্জাতিক বিষয়মূলক। মনে রাখতে হবে ইউক্রেনের যুদ্ধে কিন্তু আমরাও ভুক্তভোগী হচ্ছি।' নতুন এই পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে তাদের পড়ুয়াদের তৈরি করছে সেই বিষয়টি ছাড়াও কীভাবে পড়ুয়াদের মানসিকভাবে আরও ভাল রাখা যায় সেই বিষয়গুলি নিয়েও এদিন আলোচনা হয়েছে। অংশগ্রহণ করেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি'র উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈকত মৈত্র-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন চেম্বারের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল স্মরজিৎ পুরকায়স্থ। 

আকর্ষণীয় খবর