আজকালের প্রতিবেদন: গাড়ির দাম ৩২ লক্ষ টাকা। কিনে বিপাকে পড়েছেন শিল্পপতি। নতুন হিসেবে কিনে এখন জানতে পেরেছেন গাড়িটি পুরনো। ডিলার ও গাড়ি তৈরির ওই বহুজাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন হাইটেক সিমেন্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নরেশকুমার আগরওয়াল। 
তঁার অভিযোগ, ২০১৭–র মে মাসে তিনি তঁার সংস্থার নামে একটি বহুজাতিক সংস্থার গাড়ি কেনার মনস্থির করেন। এর জন্য কলকাতার ‘‌ল্যান্ডমার্ক’‌ নামে একটি গাড়ি বিক্রির সংস্থার সঙ্গে তঁার কথা হয়। সেই অনুযায়ী জুন মাসেই তিনি ওই সংস্থাকে গাড়ির দাম বাবদ ৩২ লক্ষেরও বেশি টাকা দিয়ে দেন। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, গাড়িটি ‘‌সেকেন্ডহ্যান্ড’‌। তঁার কথায়, ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি গাড়ি হাতে পান। গাড়ি নিয়ে তিনি যখন পার্ক সার্কাস হয়ে আসছিলেন তখন একজন পুলিশ সার্জেন্ট তঁার গাড়ি আটকান এবং বলেন ৬ মাস আগে এই গাড়িটি ট্রাফিক আইন ভেঙেছিল এবং এর জন্য জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। ওই সার্জেন্ট তঁাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কেন জরিমানা দিচ্ছেন না?‌ 
নরেশের কথায়, আমি অবাক হয়ে ওই সার্জেন্টকে বলি, একমাসও হয়নি গাড়িটি আমি হাতে পেয়েছি। আর এটা নতুন গাড়ি। ফলে কী করে ৬ মাস আগে এই গাড়ি আইন ভাঙে?‌ কিন্তু সার্জেন্ট তঁাকে প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে গাড়ির আইন ভাঙার বিষয়টি দেখিয়ে দেন। নরেশ জানিয়েছেন, এরপর তিনি বেলতলা পাবলিক ভেহিক্যালস ডিপার্টমেন্ট থেকে ওই গাড়ি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন গাড়ির মালিক অন্য একজন ব্যক্তি। 
তঁার অভিযোগ, নতুন গাড়ির টাকা দেওয়া সত্ত্বেও তঁাকে পুরনো গাড়ি দেওয়া হয়েছে। তঁার কথায়, বিষয়টি নিয়ে ওই সংস্থাকে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য, তিনি শেষপর্যন্ত পুরুলিয়া আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলে। 
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ল্যান্ডমার্কের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার নীলমণি শর্মা বলেন, ‘‌কোনও রকম জালিয়াতির ঘটনা নেই। উনি যা গাড়ি চেয়েছিলেন, সেই গাড়িই ওঁকে দেওয়া হয়েছে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজও দেওয়া হয়েছে।’‌ ‌‌
ছবিটি প্রতীকী

জনপ্রিয়

Back To Top