শিখর কর্মকার: ঘূর্ণিঝড় ‘‌তিতলি’‌–‌র ধেয়ে আসার খবরে মাথায় হাত পড়েছে পুজো উদ্যোক্তা ও শিল্পীদের। বৃষ্টি নয়, ঝড়কেই বেশি ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। মণ্ডপের সামনের অংশের শেষ পর্যায়ের কাজ অনেকেই স্থগিত রেখেছেন। স্থগিত হয়ে গেছে কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে যাওয়ার কাজ। বুধবার প্রথমার দুপুর থেকে কলকাতা ও কলকাতা সংলগ্ন অঞ্চলে তিতলির আগমনিবার্তা পৌঁছে গেছে বৃষ্টির মাধমে। ভারী বৃষ্টি শুরু না হলেও সর্বত্রই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। এই অবস্থায় এদিন কুমোরটুলি এসেও প্রতিমা না নিয়েই ফিরে গেছেন কয়েকটি দুর্গাপুজোর কর্তারা। আগামিকালও প্রতিমা নিয়ে যাবেন না বলে টেলিফোনে মৃৎশিল্পীদের জানিয়ে দিয়েছেন কয়েকটি পুজো কমিটির কর্তারা। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কাজ করতে হয় কুমোরটুলির শিল্পীদের। সেইমতো সাবধানতা তাঁদের নেওয়াই থাকে। তাই ঝড়–‌বৃষ্টি তাঁদের ভাবাচ্ছে না, তাঁরা চিন্তায় পড়েছেন বৃষ্টি থামলে আগামী দিনে চাপের কথা ভেবে। কুমোরটুলির মৃৎশিল্প সংস্কৃতি সমিতির সম্পাদক বাবু পাল জানান, ‘‌পুজোকর্তাদের অনেকেই জানিয়েছেন শুক্রবার তৃতীয়াতে প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে যাবেন। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার যেসব প্রতিমা কুমোরটুলি থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তার সঙ্গে যোগ হতে পারে গত দুদিনে না যেতে পারা প্রতিমাগুলোও। ফলে ওইদিন বাড়তি চাপ সামলাতে হবে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী ও প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার কাজে যুক্ত মানুষজনকে।’‌ পুজো এবার দেরিতে হওয়ায় মণ্ডপ–নির্মাণের কাজে কিছুটা ঝুঁকি নিয়েছিলেন শিল্পী ও পুজোকর্তাদের কেউ কেউ। তবে মণ্ডপের ভেতর বৃষ্টিতে ক্ষতি হয় এরকম জিনিস ব্যবহার করলেও বাইরের অংশে এরকম পদার্থ ব্যবহার করা হয়নি বললেই চলে। তাই বৃষ্টিতে মণ্ডপের খুব বেশি  ক্ষতির আশঙ্কা নেই পুজো শিল্পী ও কর্তাদের। তবে চিন্তা তাঁদের ঝড়কে নিয়ে। ঘূর্ণিঝড়ের মতিগতি বোঝা দায়। মণ্ডপের সামনে এমন অংশ কোথাও কোথাও নির্মাণ হয়েছে, যা ঝড়ে ক্ষতি হতে পারে। বোসপুকুর–‌তালবাগানের মণ্ডপে এক বড় অংশজুড়ে মাটির কাজ করেছেন শিল্পী পূর্ণেন্দু দে। তবে তার অধিকাংশই ভেতরের অংশে। বৃষ্টির–‌ছাঁটে ক্ষতি হতে পারে এমন অংশে মাচির ওপর প্লাস্টার অফ প্যারিসের আবরণ দেওয়া হয়েছে বলে শিল্পী জানালেন। তবে এই মণ্ডপের বাইরের অংশে থাকা মাটিতে তৈরি মোটরবাইকে চাপা পরিবারের মডেলটি উদ্বোধনের পরই প্লাস্টিকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে তিনি চিন্তিত বিধাননগর এ কে ব্লকে তৈরি ৫০ ফুট উঁচু রাবণ ও দমদম পার্ক ভারতচক্রের সামনে ৪০ ফুট উঁচু খোলা দরজা নিয়ে। কাঁচা মাটির মণ্ডপ তৈরি হয়েছে চোরবাগামে। তবে তা পুরোটাই মণ্ডপের ভেতর। তাই বৃষ্টি নিয়ে চিন্তিত নন এই পুজোর কর্মকর্তারা। তাঁদের মতো ঝড় নিয়ে চিন্তায় আছেন শহরের ছোট–‌বড় সব পুজোর কর্তারাই। কলকাতার দুর্গাপুজোর উদ্বোধনপর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। ভেতরের খোলস খুলেছে শহরের দুর্গা মণ্ডপগুলো। তিতলি থামিয়ে দিয়েছে মণ্ডপের সামনের অংশের খোলস খোলা। উপরন্তু নতুন করে খোলসের ভেতর ঢুকে পড়েছে শহরের কয়েকটি মণ্ডপ। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top