আজকালের প্রতিবেদন: ১০০ বছরের পুরনো ফিটন গাড়িতে চেপে রাজবেশে নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের পুজোমণ্ডপে এলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। একই সময়ে হিন্দুস্থান পার্কে নিজের পাড়ার সিঁদুরখেলায়, নাচে অংশ নিলেন আবাসন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দশমীর মতো বুধবার, একাদশীতেও এক দিকে যেমন বিসর্জন চলল, অন্য দিকে সেরা প্রতিমা, মণ্ডপে সন্ধে থেকে ভিড় জমে উঠল। তবে সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে ঘোর দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন উদ্যোক্তা থেকে দর্শনার্থীরা। 
দশমীতে বাড়ির প্রতিমা এবং বহু বারোয়ারি পুজোরই বিসর্জন হয়ে গিয়েছিল। একাদশীর দুপুর থেকেও বেশ কিছু প্রতিমা বিসর্জনের জন্য তৈরি হয়। কিন্তু বাদ সেধে ঝেঁপে নামে বৃষ্টি। শোভাযাত্রা না করে অনেকেই প্লাস্টিকে মুড়ে প্রতিমা বিসর্জন দেন। এদিন রাত পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন চলে। তবে সেরা পুজোগুলির প্রতিমা থেকে গিয়েছে রেড রোডের কার্নিভ্যালে অংশ নেওয়ার জন্য। যদিও রীতি মেনে ঘট–‌বিসর্জন ও সিঁদুরখেলা হয়।
দুপুরে নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘে গিয়ে দেখা গেল, সাবেকি লাল পাঞ্জাবি ও ঘিয়ে রঙের ধুতি, কঁাধে কাজ–‌করা উত্তরীয়, পায়ে মানানসই চামড়ার চটি পরে ১০০ বছর পুরনো একটি ফিটন গাড়িতে চেপে বাড়ি থেকে এলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। সঙ্গে সাহা টেক্সটাইল্‌সের কর্ণধার কান্তি সাহা। নতুন পোশাকে শিক্ষামন্ত্রীকে দেখে অনেকেই অবাক। জানালেন, এই নিয়ে তিনবার তিনি ধুতি–‌পাঞ্জাবি পরলেন। প্রথমে বিয়ের সময়। দ্বিতীয় বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়। আর এদিন। বললেন, ‘‌এটা আমার নতুন অভিজ্ঞতা। কোনও দিন ফিটন গাড়ি চড়িনি।’ এর পর তিনি‌ নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের মণ্ডপে সিঁদুরখেলা দেখলেন। অনেকে এসে তঁার সঙ্গে সেল্‌ফিও তুললেন। হিন্দুস্থান পার্কের মণ্ডপে সিঁদুর খেলে আবাসন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বললেন, ‘‌বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতির রক্ষায় আমরা বিশ্বাসী। প্রার্থনা করি, বাংলার এই সম্প্রীতি যেন বজায় থাকে।’‌
বিকেলে বৃষ্টি থামতেই কলকাতার সেরা পুজোর মধ্যে চেতলা অগ্রণী, সুরুচি সঙ্ঘ, টালা পার্ক, সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মতো মণ্ডপগুলিতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে অনেকেই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে গিয়েছেন।
এদিন বিসর্জনও অন্য বছরের তুলনায় কম হয়েছে। সন্ধে পর্যন্ত ভাসান হয়েছে ৯১টি প্রতিমার। দশমীতে রীতি মেনে বিভিন্ন বাড়ির পুজো ও বনেদি বাড়িগুলির প্রতিমা বিসর্জন হয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন মহিলারা। মাটির তৈরি নীলকণ্ঠ পাখি বিসর্জন দেওয়া হয়। বাবুঘাট, বাগবাজার ঘাট, আহিরীটোলা ঘাট ও জাজেস ঘাট–‌সহ বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। দায়িত্বে ছিলেন কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা। ছিল অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থাও। মঙ্গলবার বিকেলে বাজে কদমতলা ঘাটে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গঙ্গা–দূষণ রুখতে তৎপর রয়েছে পুরসভা। ঘাটের কাছে নির্দিষ্ট জায়গায় ফুল–‌মালা ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিমা গঙ্গার জলে ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই তা তুলে ফেলা হচ্ছে। রয়েছে ভাসমান ক্রেন। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কর্মীরা দ্রুত ঘাট সাফাইয়ের কাজ করছেন। বিসর্জন চলাকালীন প্রতিদিন গঙ্গায় নজরদারি চালাবে কলকাতা রিভার ট্রাফিক পুলিশের স্পিডবোট।

জনপ্রিয়

Back To Top