আজকালের প্রতিবেদন: ত্রিপুরায় বিজেপি–‌র সঙ্গে প্রথমবার লড়েছে সিপিএম। বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা কম ছিল। ত্রিপুরায় হারের প্রসঙ্গে বুধবার বললেন সিপিএমের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত। বললেন, ‘‌এত বছর আমরা সেখানে কাজ করছি। সেখানকার জনগণের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আরএসএস–‌ও বহু বছর ধরে সেখানে কাজ করে চলেছে। ওদের বিকল্প হিসেবে সিপিএমের কাজে খামতি ছিল। আরএসএস হিন্দুত্ববাদী প্রচার চালিয়েছে। যার সুফল পেয়েছে বিজেপি। আরএসএস–এর জন্যই বিজেপি জিতেছে।’‌
আরএসএস ও বিজেপির আগ্রাসী সাম্প্রদায়িকতা রুখতে কমিউনিস্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ কারাত এদিন বলেন, মোদী সরকার নয়া উদারবাদের প্রতিষ্ঠার জন্য আগ্রাসীভাবে কাজ করে চলেছে। পঁুজিবাদের বিকাশের জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শাসকদলের উদ্দেশ্য, হিন্দুত্বের জিগির তুলে নয়া উদারনীতি কায়েম করা। পঁুজিবাদের প্রতিষ্ঠার জন্য কংগ্রেস সরকার গত দশ বছরে যা করেছে, মোদী সরকার তা চার বছরেই করে ফেলেছে। এবং তারা এই লক্ষ্যেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এটাই সবথেকে বিপদের। 
তিনি আরও বলেন, আরএসএস ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। এখনই না আটকানো গেলে, তাদের হিন্দুরাষ্ট্রের স্বপ্ন সফল হয়ে যাবে। ওদের প্রচুর শাখা সংগঠন রয়েছে। যারা সমাজের সব ক্ষেত্রে কাজ করছে। বিশেষ করে শিক্ষা, সমাজসেবা ইত্যাদি। পাশাপাশি মুসলিম, আদিবাসী ও দলিতদের মধ্যে হিন্দুধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন ইস্যুতে লাভ জেহাদ, গোরক্ষার নামে বহু মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এখন আরএসএস–‌এ বুদ্ধিজীবীদের প্রভাবও বাড়ছে। প্রচুর প্রতিষ্ঠানও তাদের সঙ্গে রয়েছে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই আরএসএস ৮২৫টি স্কুল চালায়। অন্যান্য রাজ্যে ৪০ হাজারেরও বেশি স্কুল। সেগুলিতে লক্ষ লক্ষ ছাত্র রয়েছে। দলিত আদিবাসীদের মধ্যে আরএসএস–‌এর বিকল্প হিসেবে সিপিএম কাজ করে উঠতে পারছে না। যে কারণে আগামী দিনে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ ক্ষমতাকে একজোট হয়ে এই ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তত্ত্বগত লড়াই চালাতে হবে। আমাদের চেষ্টা করা উচিত সবাইকে একমঞ্চে আনার। হিন্দুধর্মে বিভিন্ন ধারা রয়েছে। সেগুলি শেষ করে দিতে চায় আরএসএস। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে লড়তে হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top