Netaji Bhawan: ১৯০০ কিমি বাইক চালিয়ে নেতাজি ভবনে হায়দরাবাদের যুবক

 

কৌশিক রায়

দূরত্ব অনেক।

কিন্ত আদর্শের কাছে কি আর দূরত্ব বাধা হতে পারে? 'নেতাজি আমার আদর্শ, তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতেই এতদূর পথ এসেছি।' ২৩ শে জানুয়ারি হায়দরাবাদ থেকে বাইক চালিয়ে কলকাতার নেতাজি ভবনে এসে এমনই বার্তা দিলেন গণপুরম কেতন নামে এক যুবক। ১৯ জানুয়ারি বাইক নিয়ে বেরিয়েছেন। রাস্তায় থেমেছেন দুবার। প্রথমে অন্ধ্রপ্রদেশের আন্নাভারাম, তারপর বিশাখাপত্তনম হয়ে ভুবনেশ্বরে একরাত কাটিয়ে পুরী ঘুরে রবিবার রাতে সোজা ঢোকেন কলকাতায়। কিন্তু শুধুই কি নেতাজির টানে এতদূর আসা? জিজ্ঞেস করায় জানালেন, 'আমি নেতাজির ভক্ত। সারা দেশে নেতাজির ওপর যত মিউজিয়াম রয়েছে সব আমি বাইকে করে ঘুরেছি।' পেশায় উকিল কেতনের দাবি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে যে এত রহস্য রয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সাধারণ মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করা। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কেতন অনুরোধ জানিয়েছেন, 'নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির যা ফাইল রয়েছে তা সর্বসাধারণের সামনে তুলে ধরা হোক। আমি চাই দেশের সমস্ত রাজ্যে নেতাজিকে নিয়ে যেন একটা করে মিউজিয়াম থাকে। এতে দেশের মানুষ আরও বেশি করে তাঁর সম্পর্কে জানতে পারবে।' কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও কেতন অনুরোধ জানিয়েছেন, ইতিহাস বইতে অন্তত সত্যি তথ্যটা প্রকাশ করুন। এসব দাবি ছাড়াও তাঁর কলকাতা আসার মূল উদ্দেশ্য হল, যেখানে বসে নেতাজি এত বড় একটা প্ল্যান বানিয়েছিলেন, যেই পথ দিয়ে ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছিলেন তা একবার স্বচক্ষে দর্শন করা। হায়দরাবাদ থেকে কলকাতা আসার সময় প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার বাইক চালিয়েছেন কেতন। সঙ্গে খাবার বলতে ছিল তরমুজ, নারকেল জল। রাত কাটানোর সময় স্থানীয় খাবার কিছু খেয়ে নিয়েছিলেন। আসার পথে তিনি ঘুরে এসেছেন পুরীও। ফলে, ১৫০০ কিলোমিটারের রাস্তা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০০ কিলোমিটারে। ইতিমধ্যেই ইংরেজি এবং তেলুগু ভাষায় নেতাজিকে নিয়ে লেখা সমস্ত বই পড়ে ফেলেছেন তিনি। নেতাজির জন্মবার্ষিকীটা কলকাতায় কাটিয়ে সোমবার রাতেই আবার বাড়ির পথে রওনা দেবেন নেতাজির অন্ধ ভক্ত।

আকর্ষণীয় খবর