আজকালের প্রতিবেদন: বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে পরিষদীয়মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাজের তীব্র নিন্দা করেন। রাজ্যপালের নির্দেশে মালদার আমলার কাছে চিঠি লেখা হলে চারিদিক থেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বুধবার পার্থ বিধানসভায় বলেন, ‘‌মালদা ডিভিশনের কমিশনারকে রাজ্যপালের অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি চিঠি লিখে কাজটা ঠিক করেননি। রাজ্যপালের এই আচরণের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে। বিধানসভার বিরোধী দলগুলিও আমার এই মন্তব্যে কোনও বিরোধিতা করেনি।’‌ উল্লেখ্য, মালদা ডিভিশনের কমিশনারকে লেখা এই চিঠিটি সাংবাদিকদের কাছে আগেই ফাঁস হয়ে যায়। চিঠিটি রাজ্যপালের দপ্তর থেকে সীমান্তবর্তী জেলা ও মালদা ডিভিশনের আওতায় থাকা জেলাগুলির আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অহেতুক উৎসাহ দেখানো হয়েছে। এই চিঠিতে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারের মদতপুষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বৈঠক হলে আইজি মুর্শিদাবাদ যেন উপস্থিত থাকেন। পার্থ এদিন বলেন, রাজ্যপাল জেলায় বৈঠক করতে চেয়ে যে চিঠি দিয়েছেন তা সাংবিধানিকভাবে ঠিক নয়। এই ঘটনায় আমরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান পদে থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করে তিনি রাজ্যপালের পদকে কলঙ্কিত করেছেন। তিনি সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছেন। একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি এ কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের শাসক দলের হয়ে কাজ করেছেন। কেন্দ্রের বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে তিনি আলোচনা করতে চান, যেটা তাঁর এক্তিয়ারভুক্ত নয়। বিধানসভায় তাঁকে আমরা সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে মানি। যে কাজ তিনি করেছেন সেটা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা তীব্র ভাষায় নিন্দা করছি। কংগ্রেস পরিষদীয় দলের অসিত মিত্র বলেন, এটা সার্বভৌমত্বের ব্যাপার। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেস এ বিষয়টি নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব আনার জন্য নোটিস দেয়। কিন্তু চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু মুলতুবি প্রস্তাব তুলতে দেয়নি। এদিন রাজ্য বিধানসভায় অধ্যক্ষ জানিয়ে দেন, বিষয়টি প্রস্তাব আকারে এলে আলোচনা হতে পারে। 
সৌজন্য সাক্ষাৎ
বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির সঙ্গে দেখা করলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য প্রদীপ ঘোষ। উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এক মাসের ছুটিতে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রদীপবাবু্। নতুন দায়িত্ব পেয়ে তাই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এটা সৌজন্য সাক্ষাৎকার। আর প্রদীপবাবু বলেন, ‘‌আমার নিজের দরকার ছিল। তাই দেখা করতে গিয়েছিলাম।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top