নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় (‌অভিজিতের মা)- বালিগঞ্জের মহানির্বাণ রোডে আমাদের বাড়ির পাশেই একটা বস্তি ছিল। সব বাচ্চাই একসঙ্গে রাস্তায় খেলত। রাস্তাই তখন খেলার জায়গা ছিল। তাদের সঙ্গে থেকেও ও অনেক কিছু শিখেছে।
আমি নিজে ইকোনমিক্সের অধ্যাপক। রিসার্চের কাজ করতাম। ও যখন কাজ করে খুব নিয়ম মেনে, দায়িত্ব নিয়ে করে। দারিদ্র‌ মানে কী, কীভাবে দারিদ্রের মধ্যে দিয়ে গরিবরা যায় এবং কী ধরনের নীতি তাদের সুবিধে দিতে পারে, এটা নিয়েই ও কাজ করেছে। আমি দুপুরেই ছোট ছেলের ফোনে জানতে পারি। আমার ছেলে শুধু আমারই ছেলে নয়, দেশের ছেলে। এখনও ঘরোয়া কথা ছাড়াও আমাদের মধ্যে নানা বিষয়ে কথা হয়। আমার কোনও বিষয়ে আগ্রহ থাকলে ওকে জিজ্ঞাসা করি। ওর কোনও বিষয়ে আগ্রহ থাকলে সেটা নিয়েও কথা হয়। 
‌প্রথমে ঠিক হয়েছিল ফিজিক্স নিয়ে পড়বে। কিন্তু ছোট ছোট এক্সপেরিমেন্ট করতে ভাল লাগত না। তাই ঠিক করে স্ট্যাটিস্টিক্স নিয়ে পড়বে। কিন্তু কলেজ ছিল বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে। ও বলছিল, কলেজে যাওয়া–‌আসা করে আর অন্য কিছু করার সময়ই থাকবে না। সেই জন্য স্ট্যাটিস্টিক্স ছেড়ে প্রেসিডেন্সিতে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে।
১৯৮৩ সাল থেকেই বিদেশে আছে। বছরে ৩–৪ বার দেখা হয় আমাদের। আমরা সবাই ওকে সমাজবিজ্ঞানী বলতেই পছন্দ করি। কারণ অর্থনীতি বিষয়টাই হল নাগরিক ও তাদের কাজকর্ম নিয়ে। তাদের বইটাই তো মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে। যেমন মশারি দিলে অন্যান্য ব্যবস্থার চেয়ে কত লাভ হয় তারা দেখিয়েছি। বহু বছর ধরেই শুনেছি ও ভাল কাজ করছে। সবটা আমি পড়িনি। ওর কাজে অনেক অঙ্ক ব্যবহার করা হয়। সেগুলো আমি করিনি কখনও। সেই অংশ ছেড়ে দিয়ে বাকি ও কী বলতে চাইছে সেটা বোঝার চেষ্টা করি। ভালই লাগে। ওর স্ত্রী এস্থার কলকাতায় অনেক দিন ছিল। কঠিন বিষয়কে খুব সহজ সরল করে বোঝায় যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে। এখনকার ট্যাক্স নীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমি ওকে বলেছিলাম, তোমার কী মনে হয় না এটা ভুল হয়েছে?‌ ও বলেছিল ওরও মনে হয় এটা ভুল হয়েছে।
নোটবন্দির পক্ষে খুব একটা সমর্থন ছিল না বলেই মনে হয়। এই বিষয়ে ওকেই জিজ্ঞাসা করা ভাল। ও বিতর্ক হলেও খুব ঠান্ডা মাথায় সামলায়। ওকে আক্রমণ করলেও রেগে যায় না। ঠান্ডা মাথায় উত্তর দেয়। 
আমি কখনও হাতে ধরে ওকে কিছু শেখাইনি। আমার মনেই হয় না হাতে ধরে সব কিছু শেখাতে হবে। তুমি যা করবে তা দেখেই ওরা শিখবে। মুখ্যমন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়েছেন শুনে খুশি হলাম। কলকাতার ছেলে বলে তাঁরও নিশ্চয় ভাল লেগেছে। এখনকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
গরিব বাচ্চাদের জন্য প্রকল্পের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেই প্রকল্পগুলো কীভাবে করা উচিত সে বিষয়ে বলেছে। যেমন এস্থার অনেক কাজ করেছে স্বাস্থ্য নিয়ে। সরকারের কী প্রকল্প করা উচিত, কত টাকা দেওয়া প্রয়োজন সেই বিষয়ে নয়। গরিব মানুষ কী চাইছে, কীভাবে বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি চাইছে, সেই বিষয় নিয়ে। তাঁদের সমস্যাগুলো যাতে তাঁরা নিজেরাই সমাধান করতে পারেন সেই বিষয়ে কাজ করেছে। সরকার তো সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এ মাসেই ওর আসার কথা আছে কলকাতায়। দিল্লিতে তার পরের বই প্রকাশিত হবে। তারপরই কলকাতায় ১ দিনের জন্য আসার কথা। তবে কবে আসবে এখনও জানতে পারিনি।‌‌‌‌

বালিগঞ্জের বাড়িতে ছেলের ছোটবেলার ছবি হাতে মা। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top