আজকালের প্রতিবেদন- অর্থনীতিতে নোবেল জয়ের জন্য অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানালেন ‌অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার। তিনি বলেছেন, ‘‌অত্যন্ত আনন্দের কথা। অভিজিৎ চিরকালই অন্যরকমভাবে চিন্তা করে। যে তিনজন বইটি লিখেছেন, তাঁরা ডেভেলপমেন্ট ইকনমিকসের একটা নতুন অ্যাপ্রোচ তৈরি করেছেন। অভিজিতের বাবা দীপক ব্যানার্জি আমাদের সবার মাস্টারমশাই। প্রেসিডেন্সি কলেজের খুব বিখ্যাত মাস্টারমশাই। যে সব বাঙালি অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তাঁদের অনেকেই দীপকবাবুর ছাত্র বা অথবা খুব পরিচিত। ওর কাজটাই পভার্টি এবং ইকনমিকস আন্ডার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে। ওর স্ত্রী এস্থার ডাফলো জন বেটস ক্লার্ক সম্মান পেয়েছেন। এই সম্মান ৪০ বছর বয়সের নীচে পাওয়া যায়। তিনি অভিজিতের কাছেই একসময় পিএইচডি করেছিলেন। ওদের কাজটার একটা অভিনবত্ব আছে। ‌আগে একটা থিয়োরি খাড়া করা হত, যে কেন মানুষ গরিব। অথবা কেন সরকারের একটা নীতি কাজ করছে না। অভিজিৎ মনে করত তত্ত্ব যে কোনও বিষয়ে তৈরি করা যায়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেই তত্ত্বই সত্য। ওদের কাছে সত্য হল বাস্তবে হচ্ছে যেটা। একটা বড় ধরনের সার্ভে করে তবেই আসবে সত্য। ধরা যাক সরকার গরিবদের জন্য বিশেষ কোনও সুবিধের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেই সুবিধে ফলপ্রসূ হবে কিনা তা জানতে গেলে একদলকে এই সুবিধে দেওয়া হল, একদলকে দেওয়া হল না। যাদের দেওয়া হল তাদের জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন হল কিনা তা সার্ভে করে দেখতে হবে। তবেই বোঝা যাবে সরকারের ওই বিশেষ সুযোগ কাজ করল কিনা। যেমন, একবার দেখা গিয়েছিল আফ্রিকার কোনও একটি দেশে বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছিল না। এই স্কুলে না যাওয়া নিয়েও অনেক থিয়োরি খাড়া করা হয়েছিল। কেউ কেউ বলেছিলেন তাদের অল্প বয়সে রোজগার করতে হয়, তাই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে। কিন্তু দেখা গেল বাচ্চাদের পায়ে জুতো নেই। খালি পায়ে ঘাসের ওপর দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময়  তাদের হুপিং কাফ হচ্ছে। কিছু বাচ্চাকে জুতো দিয়ে দেখা গেল তারা ফের স্কুল যাচ্ছে। কিন্তু যারা জুতো পায়নি তারা স্কুল যাওয়া বন্ধ রেখেছে। এরকমই বাস্তব কিছু সমস্যার খুব সহজ কিছু বাস্তব সমাধানও আছে। তার জন্য বিশাল কোনও থিয়োরির প্রয়োজন নেই এটাই ব্যাখ্যা করতে চেয়েছে অভিজিৎরা।‌‌’‌‌

 

অভিজিৎ ব্যানার্জির সহধর্মিনী এস্থার ডাফলো। ছবি: এপি

জনপ্রিয়

Back To Top