আজকালের প্রতিবেদন- সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে তৎকালীন প্রেসিডেন্সি কলেজ। কলকাতাতেই জড়িয়ে রয়েছে নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্কুল আর কলেজবেলা। 
তাঁর নোবেল জয়ের খবরে তাই গর্বিত, উচ্ছ্বসিত, মহা–‌আনন্দিত সাউথ পয়েন্ট এবং প্রেসিডেন্সি। 
শুরু থেকে সাউথ পয়েন্ট স্কুলেই পড়েছেন অভিজিৎবাবু। ১৯৭৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান। মা নির্মলাদেবী ছিলেন সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতার অর্থনীতির অধ্যাপিকা। বাবা–মা দু’‌জনেই অর্থনীতির মানুষ হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই এই বিষয়টির প্রতি আকর্ষণ ছিল অভিজিৎবাবুর। অঙ্কও ছিল অন্যতম প্রিয় বিষয়। স্কুলের পালা সাঙ্গ করে প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৮১ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক হন। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। পিএইচডি করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। 
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই অভিজিৎবাবুকে শুভেচ্ছাবার্তা জানানো হয়েছে। জানানো হয়েছে তাঁর স্ত্রী এস্থার ডাফলোকেও। অভিজিৎবাবুর সঙ্গে যৌথ ভাবে নোবেল পাচ্ছেন এস্থারও। অভিজিৎবাবুর আগে ১৯৯৮ সালে বাঙালি হিসেবে প্রথম নোবেল পেয়েছিলেন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। অমর্ত্য সেনও প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী। তার ঠিক ২১ বছর পরে নোবেল পাচ্ছেন তাঁর অন্যতম প্রিয় ছাত্র অভিজিৎবাবু। কলকাতায় এলেই তাঁকে সংবর্ধনা দেবে বিশ্ববিদ্যালয়। রেজিস্ট্রার দেবজ্যোতি কোনার বলেন, ‘‌দিনটি প্রেসিডেন্সির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের কাছেই খুব গর্বের এবং মহা–‌আনন্দের দিন। ওঁকে সংবর্ধনা জানানোটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। পুজোর ছুটির পর বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ২০১১ সালে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নের জন্য যে মেন্টর গ্রুপ গঠন করেছিলেন, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন অভিজিৎবাবু। মেন্টর গ্রুপের মেয়াদ শেষ হলেও তঁার সঙ্গে প্রেসিডেন্সির যোগাযোগ এখনও নিবিড়। যখনই কলকাতায় আসেন একবার প্রেসিডেন্সি ঘুরে যান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। নিয়মিত পরামর্শ দেন বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার। বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে প্রেসিডেন্সিতে একটি ক্লাসরুম বা ‘‌লেকচার থিয়েটার’‌ রয়েছে, যা ১৬ নম্বর ক্লাসরুম নামে পরিচিত। বাবার নামে একটি লেকচার‌ও চালু করেন তিনি। গত বছর সেই ‘‌দীপক ব্যানার্জি মেমোরিয়াল লেকচার’‌ দিতে প্রেসিডেন্সিতে এসেছিলেন এস্থার ডাফলো। 
স্কুলের কয়েক জন শিক্ষিকা, যাঁদের কাছে ছোটবেলায় পড়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও ই–মেলে যোগাযোগ ছিল অভিজিৎবাবুর। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের পক্ষ থেকে কৃষ্ণ দামানি জানিয়েছেন, স্কুল খোলার পর পড়ুয়া, শিক্ষক–শিক্ষিকা, আধিকারিক, কর্মী প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দনবার্তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top