আজকালের প্রতিবেদন- নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ‘‌ব্যাচমেট’‌ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ, আলোচনা ও তর্ক–বির্তকের সম্পর্ক ছিল রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কলেজ জীবনে প্রায়ই নানা বিষয় নিয়ে তর্কে মেতে উঠতেন তঁারা। প্রেসিডেন্সির বেকার ভবনে একই বিল্ডিংয়ে পাশাপাশি ঘরে ক্লাস নেওয়া হত তঁাদের। সোমবার আলাপন বলেন, ‘‌কার্ল পপার নামে একজন খুব বড় পণ্ডিত ছিলেন। তঁার লেখা ‘দ্য ‌ওপেন সোসাইটি অ্যান্ড এনিমিজ’। এটা মূলত তৎকালীন বিশ্বের মার্কসবাদ ও তার প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লেখা। অভিজিৎ ছিল তখন মার্কসবাদের সম্পূর্ণ বিপরীতে। আমরা অনেকেই ছিলাম মার্কসবাদের পক্ষে। এই‌ লেখাটা নিয়ে অভিজিতের সঙ্গে অনেক তর্ক–বিতর্ক হয়েছে। এটা ছিল ১৯৭৮–৭৯ সাল। বাংলা ভাষায় গভীর নিবন্ধ লেখা যায় কি না তা নিয়েও অনেক তর্ক–বিতর্ক হয়েছে। এরকম টুকরো টুকরো অনেক স্মৃতি আছে। অভিজিৎ ছিল আমার ব্যাচমেট। ও অর্থনীতির ছাত্র ছিল আর আমি ছিলাম পলিটিক্যাল সায়েন্সের ছাত্র। বেকার বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি দুটো ঘরে ক্লাস হত। করিডোরে দেখা হত। টিফিনের সময় দেখা হত। গল্পগুজব অনেক হয়েছে। ১৯৭৮–১৯৭৯ সালে খুবই গল্পগুজব বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। তারপর অভিজিৎ ধীরে ধীরে অর্থনীতিতে ‘‌স্পেশ্যালাইজড’‌ করে যায়। এরপর বাইরে চলে গেল। আমরাও অন্যদিকে যাই।’‌ 
স্মৃতি থেকে তুলে এনে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘‌অভিজিতের বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মাস্টার মশাই ছিলেন। খুবই নামকরা অধ্যাপক ছিলেন। অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। অর্থনীতি আর পলিটিক্যাল সায়েন্স একেবারে পাশাপাশি ঘরে পড়ানো হত। ফলে আমরা প্রায়ই ওঁর ঘরে যেতাম। উনিও আমাদের খুব স্নেহ করতেন। একটা সময় ১৯৭৮, ১৯৭৯ ও ১৯৮০ সাল নাগাদ অভিজিতের সঙ্গে অনেক তর্ক, বিতর্ক ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। আলাপ, আলোচনার অনেক ভাল স্মৃতি আছে। এখন আর সেরকম যোগাযোগ নেই। এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে অভিজিৎ বেশ কিছু ‘‌প্রজেক্ট’‌ একসঙ্গে করে। আমাদের অনেক অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। আমার সঙ্গে সেভাবে আর কোনও যোগাযোগ নেই।’‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top