আজকালের প্রতিবেদন: মুখগুলো সব রঙিন। চেনা দায়। কেউ কেউ আবার মত্ত, বেসামাল। দোলের দিন এভাবেই রাজপথ–‌‌অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গেল বাইক আরোহীদের। মাথায় হেলমেট তো দূরের কথা!‌ 
তবে দোল বলে তো আর আইনে ছাড় নেই। থানাগুলি আগে থেকেই মাইকে প্রচার করেছে। তবু যে–‌‌কে–‌‌সেই। পুলিস কড়া পদক্ষেপ করতেই পারত। কিন্তু  বৃহস্পতিবার শহর দেখল পুলিসের ‘‌গান্ধীগিরি’। বেসালাম বাইক আরোহীদের আটক করা হল ঠিকই, কিন্তু ‘‌জরিমানা’‌ না করে, ‘‌কাউন্সেলিং’–‌‌এর পথেই হাঁটল পুলিস। তাতে ফলও মিলেছে। জীবনের গুরুত্ব বোঝানোর পর বাধ্য ছেলের মতো বাইক নিয়ে ফিরে গেছে বাড়িতে। কেউ মত্ত অবস্থায় বাইক না চালানোর অঙ্গীকার করেছে। মত্ত বাইক আরোহীদের মধ্যে বেশিরভাগই কমবয়সি। তবে বড়রাও কম যায়নি।  
গড়িয়াহাট থেকে শ্যামবাজার। বেহালা থেকে কসবা। কলকাতা জুড়ে পুলিসের কাউন্সেলিংয়ের ছবিই ধরা পড়েছে। পুলিস বাইক আটকাতেই প্রথমে কেউ কেউ ভয়ে পেয়ে যান। যেমন গড়িয়াহাটে স্বামী–‌‌স্ত্রী বিনা হেলমেটে যাচ্ছিলেন। পুলিসকর্মী তাঁদের দঁাড় করান। বলেন, হেলমেট ছাড়া বাইক চালাচ্ছেন কেন?‌ দুর্ঘটনা ঘটলে পরিবারের কী হবে? ‌প্রাণও যেতে পারে। 
আরেকজন ধরা পড়েন বেহালায়। তঁার যুক্তি, হেলমেটে রং লাগবে। পুলিস বুঝিয়ে বলে, রং বড়, না মাথা। শ্যামবাজারে ধরা পড়ার পর এক কিশোরের যুক্তি, এই তো পাশেই থাকি। পুলিস তাকেও কাউন্সেলিং করে। বলেন, পাশে থাক বলে কি দুর্ঘটনা হবে না!‌ 
সিগন্যালের সিসি টিভি ক্যামেরায় নজর ছিল পুলিসের। কোথাও কোথাও পুলিসের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে দেখা গেছে। পুলিস রয়েছে বুঝতে পেরেই কেউ কেউ পালানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি। কারণ ধরা পড়লেই যে জরিমানা হবে। কিন্তু হঠাৎ পুলিস গান্ধীগিরিতে ভরসা রাখল কেন? এক পুলিসকর্মী জানালেন, ওদের যা অবস্থা ছিল, তাতে বুঝিয়েসুঝিয়ে বাড়ি না পাঠালে আরও বিপদ হয়ে যেত। আমরা শুধু জরিমানা করে ছেড়ে দিলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত কি? দোল রঙের উৎসব৷ এই দিন মানুষ আনন্দে মেতে থাকে। কিন্তু যেখানে বেশি বাড়াবাড়ি দেখা গেছে, গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ছাড় মেলেনি।
শহর জুড়েই কড়া নিরাপত্তা ছিল। কিন্তু এত নিরাপত্তা সত্ত্বেও বিজন সেতুতে বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন দুই ব্যক্তি৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ সেতুতে বেপরোয়া বাইক চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে আহত হন দু’জন বাইক আরোহী। দেবরাজ সিং বাইক চালাচ্ছিলেন। তাঁর বাঁ পায়ে চোট লেগেছে। সৌমি দাস নামে তাঁর এক বন্ধুর চোট লাগে হাতে। ঘটনাস্থলে যায় কসবা থানার পুলিস। আহতদের উদ্ধার করে এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।  অন্যদিকে, চারু মার্কেট থানা এলাকার লেক গার্ডেন্স ব্রিজে বাইক দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হন  চালক শেখ সাউদার ও আরোহী অবিনাশ বেরা।
দোল ও হোলিতে শহরে নিরাপত্তার জন্য পুলিস পিকেট, ৬৪ ঘাটে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী৷ কলকাতাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলার পাশাপাশি, দু’‌দিনের রঙের উৎসবে কাউন্সেলিংয়ের পথেই রইল পুলিস।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top