শ্রাবণী গুপ্ত: প্রার্থী তালিকা আলো করে ছিলেন ওঁরা। খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল সেই প্রসঙ্গ। বস্তুতপক্ষে তৃণমূল এবং বিজেপি, দুই শিবিরে আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেছিল টলিউড। একদিকে রাজ, সোহম, কাঞ্চন, অদিতি মুন্সি, সায়ন্তিকা, কৌশানি, সায়নী, জুন মালিয়া ‘দিদির শিবিরে’। অন্যদিকে হিরণ, রুদ্রনীল, যশ, শ্রাবন্তী, পায়েল, পার্নো বিজেপি শিবিরে। ভোট বাজারে প্রচারের ছটা ছড়ানোর পর ফল প্রকাশ পেরিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ হল আজ। 
তখন থেকেই ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রসঙ্গ। প্রার্থী তালিকায় তারকার চমক থাকলেও নতুন মন্ত্রিসভায় কিন্তু প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি ছাড়া আর কোনও তারকা নেই। প্রত্যাশা ছিল, পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে জিতে আসা অভিনেতা সোহম জায়গা পাবেন এই মন্ত্রিসভায়। একে তো শুভেন্দু অধিকারীর খাস জেলা, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরেই যুব তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সোহম। যদিও বিধানসভায় শপথ নিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, যখন যে রকমভাবে দল থেকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটা তিনি পালন করবেন।
আরেক তারকা প্রার্থী ছিলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। ব্যারাকপুর থেকে জিতে এসেছেন তিনি। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী পর্বে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা ছিল, উত্তর ২৪ পরগণার এই এলাকায় অর্জুন সিং-কে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। রাজ সেই মিথ ভেঙেছেন। তবে বিধানসভা অলিন্দে দাঁড়িয়ে রাজও জানিয়েছিলেন, রাজনীতিক হিসেবে সবে তাঁর ইনিংস শুরু হয়েছে। এলাকায় কাজ করার পাশাপাশি রাজনীতিতে হাত পাকাতে চান তিনি। 
হুগলির উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে প্রবীর ঘোষালকে হারিয়েছেন কাঞ্চন মল্লিক। ভোটের আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন প্রবীর। তবে ভোটে জিতলেও মন্ত্রিত্ব নিয়ে ভাবতে নারাজ কাঞ্চন।
রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্র থেকে এসেছেন প্রসিদ্ধ কীর্তন শিল্পী অদিতি মুন্সি। হারিয়েছেন বিজেপির সিনিয়র নেতা শমীক ভট্টাচার্যকে। আপাতত রাজনীতির পাশাপাশি গানের কেরিয়ার নিয়েই থাকতে চান অদিতি।
একমাত্র ব্যতিক্রম প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। লক্ষ্মীরতন শুক্লার ছেড়ে যাওয়া ক্রীড়া দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মনোজ।
২০০৯ লোকসভা নির্বাচন থেকেই একের পর এক প্রার্থী তালিকায় তারকা মুখ নিয়ে এসে চমক দিয়েছেন মমতা। কখনও দেব কখনও আবার কবীর সুমন। তাপস পাল, শতাব্দী রায়, সন্ধ্যা রায় থেকে মিমি অথবা নুসরত। বিধায়ক হিসেবে দেবশ্রী, চিরঞ্জিত অনেকেই রাজনীতিতে এসেছেন তৃণমূল নেত্রীর হাত ধরে। তবে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল অনেকটাই আলাদা। ফলে দীর্ঘদিন যাঁরা দলের সঙ্গে থেকে জেলায় জেলায় সংগঠন বাড়িয়েছেন, এবার তাঁদের মন্ত্রিসভায় নিয়ে এসেছেন মমতা। গ্ল্যামার নয়, জোর দিয়েছেন রাজনৈতিক ক্যারিশমার ওপর। নতুন পুরনোর সমন্বয় এই মন্ত্রিসভার প্লাসপয়েন্ট হবে বলে মনে করছেন সকলে।
 

জনপ্রিয়

Back To Top