আজকালের প্রতিবেদন: ফের নিউ টাউনে আইনজীবী রজতকুমার দে খুনের ঘটনার তদন্তে নাটকীয় মোড় নিল। স্বামীর লাগাতার অত্যাচার ও হুমকির জেরে ‘‌হিট অফ দ্য মোমেন্ট’‌–‌এ এই কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে বলে যে দাবি করেছেন ধৃত স্ত্রী, তা বিশ্বাস করছেন না তদন্তকারীরা। তদন্তে উঠে এসেছে সম্পর্কের টানাপোড়েন। অনিন্দিতার এক বিশেষ বন্ধুর নাম পেয়েছে পুলিস। পুলিসের ধারণা, ঘটনার সময় নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে সেই ব্যক্তি উপস্থিতও ছিল। যদিও মঙ্গলবার রাতে থানায় গিয়ে অনিন্দিতার সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর আইনজীবী চন্দ্রশেখর বাগ সংবাদমাধ্যমে পুলিসের বিরুদ্ধ অভিযোগ করেন। বলেন, মক্কেল তাঁকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল বলে লিখে দিতে চাপ দিচ্ছে পুলিস। এদিকে, বুধবার আবার নিউ টাউনে মৃত আইনজীবীর ফ্ল্যাটে যান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। অনিন্দিতা জেরায় দাবি করেছিলেন, ২৪ নভেম্বর ঘটনার দিন রাতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় বিছানার চাদর ঝুলিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন রজত। বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে ফ্যানটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ফ্ল্যাট থেকে অন্যান্য কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়। 
অনিন্দিতা জেরায় পুলিসের কাছে কবুল করেছেন, স্বামীর গলায় মোবাইলের চার্জারের তার পেঁচিয়ে খুন করেছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে নভেম্বর মাসে একই কায়দায় খুন করা হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা বেঙ্গালুরুর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র মিঠুন কোলেকে। এই ঘটনায় গুঞ্জন ঘোষ ও কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় বারাসত আদালত। সাজা হয় গুঞ্জনের স্ত্রী রুমেলারও। ২০০৩ সালের ১০ নভেম্বর মিঠুন ছুটিতে বেঙ্গালুরু থেকে বাড়িতে এসেছিলেন। ১৩ নভেম্বর এনআরএস হাসপাতালের কাছে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মিঠুনের। তদন্তে জানা যায়, মোবাইল চার্জারের ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে সংজ্ঞাহীন করা হয়েছিল। তবে খুনিকে তখন ধরতে পারেনি পুলিস। পরে বিধাননগরে রোমা ঝাওয়ার অপহরণ মামলায় গুঞ্জন ধরা পড়ার পর তাকে জেরা করে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, রুমেলা মিঠুনকে ফোন করে বিধাননগরের একটি রেস্তোরাঁর সামনে ডেকেছিল। এরপর গুঞ্জন তাঁকে গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বাড়িতে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে খুন করা হয় তাঁকে। এ ধরনের আর কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তার কেস ডায়েরি জোগাড় করা হচ্ছে। 
বুধবার বিধাননগর কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, স্বামী–‌স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল। বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞাসা করে জানা গেছে, নানা সময়ে একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অনিন্দিতা। তাঁর এক বিশেষ বন্ধুকে নিয়ে সম্প্রতি রজতের সঙ্গে বেশ সমস্যা তৈরি হয়। তবে রজতের বিরুদ্ধেও অন্য সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ পেয়েছে পুলিস। কমিশনারেট সূত্রে খবর, শারীরিক নিগ্রহের যে অভিযোগ অনিন্দিতা করেছেন, তার সবটা সত্য নয়। মেডিক্যাল রিপোর্টে বড় কিছু পাওয়া যায়নি। বারবার বয়ান বদলে তিনি পুলিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও ইতিমধ্যেই যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ জোগাড় হয়েছে।‌     ছবি: জয় সাধুখাঁ

জনপ্রিয়

Back To Top