আজকালের প্রতিবেদন: ‘‌‌‌‌‌‌নিউ টাউনের রাস্তায় গরু চরবে, দুর্ঘটনায় মানুষ ও গরু দুই–ই মারা যাবে, এটা আমরা চলতে দেব না।’‌ বললেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। দ্য নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সংশোধিত বিল ২০১৮ মঙ্গলবার বিধানসভায় পাশ হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘‌নিউ টাউন একটা নতুন শহর। ৬ লেনের রাস্তা আছে। এখানে প্রকৃতি তীর্থ, রবীন্দ্র তীর্থ, বিশ্বমানের কনভেনশন সেন্টার এবং ইকনমিক হাব–‌সহ নানা ধরনের নতুন নতুন দ্রষ্টব্য স্থান গড়ে উঠেছে। প্রচুর মানুষ বসবাস করছেন। এই বিলের সংশোধনী আনার উদ্দেশ্য, আমরা লক্ষ্য করেছি, আচমকাই চলন্ত গাড়ির সামনে গরু বা কুকুর এসে যাচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনাও ঘটছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। কয়েক দিন আগেই একটি গোটা পরিবার দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এই বিল রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। আমরা কোনও প্রাণীর জীবনহানি ও মানুষের মৃত্যু চাই না। নিউ টাউনে গরু চরানোর জন্য একটা জায়গা ঠিক করা হচ্ছে। সেখানেই গরু, ছাগল, মুরগি চরানো যাবে। কোনও গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী নিউ টাউনের রাস্তায় থাকবে না। এ–‌ক্ষেত্রে আইন কঠোর। আইন না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেআইনি ভাবে পাখি রাখলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। ঘোড়া, গরু, কুকুর–‌সহ সব চতুষ্পদ প্রাণীর ক্ষেত্রেই নিউ টাউন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির লাইসেন্স নিতে হবে। প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌নতুন শহর হচ্ছে, পশুচারণ–‌ভূমি কমে আসছে। জীববৈচিত্র‌্যে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। বহু মানুষ এর থেকেই জীবিকা নির্বাহ করে। তাই একটা গোচারণ ভূমি হলে ভাল হয়।’‌ বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্ত বলেন, ‘‌এটি একটি সময়োপযোগী বিল। আমি লক্ষ্য করেছি, দু’‌চাকা গাড়ির সামনে গরু, ছাগল, শুয়োর, কুকুর নিউ টাউনের রাস্তায় ঢুকে যাওয়ায় দু’‌চাকার গাড়িও দুর্ঘটনায় পড়ছে, প্রাণহানি হচ্ছে। এই গরুগুলি আসে নিউ টাউনের ভেতরের পঞ্চায়েত এলাকা থেকে। তাই একটা খেঁায়াড় করা উচিত। কোনও পশুকেই মেরে ফেলতে চাই না। এটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। পঞ্চায়েত এলাকায় দেখেছি, রায়তি জমিতেই খাটাল গড়ে উঠেছে। নিউ টাউনের অনেক বাড়িতেই হিংস্র কুকুর রাখা হয়। ম্যাকাও–‌সহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বিক্রির দুষ্ট চক্র এখানে কাজ করছে। তাই এটা শক্তপোক্ত বিল।’‌ কংগ্রেসের অপূর্ব সরকার বিল সমর্থন করে বলেন, ‘‌গরুর মালিকেরা সকালে গরু ছেড়ে দেয়। তার পর বাড়িতে চলে আসে। এই বিল পঞ্চায়েত ও পুরসভাতেও চালু করা দরকার। সল্টলেকে বহু বয়স্ক মানুষ থাকেন। কুকুরের চিৎকারে তঁাদের ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। এবং হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা হচ্ছে। তার জন্য সকলের ক্ষেত্রেই এই বিল প্রযোজ্য হওয়া দরকার।’‌ তঁার মন্তব্য, ‘‌আমরা কিড স্ট্রিটে এমএলএ হস্টেলে থাকি। ১১টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত কুকুরের চিৎকার চলে।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top