কল্যাণ ব্যানার্জি: কমবেশি ৪০ লক্ষ কর্মমুখী যাত্রীর প্রতিদিন মহানগরে বাসে চেপে নিজের গন্তব্যস্থলে যাওয়া–আসা। সদ্য প্রকাশিত নীতি আয়োগের ‌‌এক সমীক্ষা অনুযায়ী ভারতের মতো বিকাশশীল দেশে গণপরিবহণে বাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বের। এমন অনেক জায়গা এখনও দেশে রয়ে গেছে, যেখানে আজও বাস ছাড়া খুব বেশি এগোনো যায় না। ফলে একদিন রাস্তায় বাস না থাকলে, জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের। পথে দাঁড়িয়ে বিকল্প পরিবহণের অপেক্ষায় সময় নষ্টই নয়, পুরো দিনটাই যেন কর্মনাশা হয়ে যায়। কলকাতায় রেলের উপনগরীয় পরিষেবা, মেট্রো, ক্যাব ট্যাক্সি, লাল–‌হলুদ মিনিবাস, নীল‌সাদা সাধারণ বাস, অটো এবং ফেরি থাকা সত্ত্বেও পরিবহণের ক্ষেত্রে সরকারি অনুপ্রেরণায় বেসরকারি উদ্যোগে আরটিএ পারমিট নিয়ে এগিয়ে এসেছে এসি ভলভো বাস পরিষেবা। যেমন সম্প্রতি এসি ভলভো বাস পরিষেবা চালু হয়েছে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে গড়িয়ার মহামায়াতলা অবধি। দীর্ঘ ৪৫ কিমিঃ পথে চলা এই বাসটি আসলে মহানগরের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত অবধি। আপাতত লাল রঙের ৭টি ভলভো ছুটছে, যা চলতি বছরের শেষ অবধি বেড়ে দাঁড়াবে ১০টি। প্যাসেঞ্জার গাড়ি প্রস্তুতকারক কলকাতার মোহন মোটরর্সের ছত্রছায়ায় মুদিত মোটরর্সের পরিচালনায় এই ভলভো পরিষেবা। যাকে ঘিরে সাধারণ নিত্যযাত্রীরা বেজায় খুশি। আরামদায়ক, সময়ানুবর্তী যাত্রার ভাড়াও আসলে মধ্যবিত্তের আয়ত্তে। ‘‌ডিসকভারি লাইন্স’‌ নামাঙ্কিত এই ভলভো বাসগুলি লো–‌ফ্লোরের, ফলে বাচ্চা এবং বৃদ্ধদের ওঠানামার ক্ষেত্রে সুরক্ষিতও। আমেদাবাদ এবং পুনের মতো এই শহরে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট করিডরের প্রয়োজন সত্যিই নেই, এমনটাই মতপ্রকাশ নগরোন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞ মহলের। কলকাতায় ট্রাম ও টানা রিকশা আছে, যা অন্য কোথাও নেই। দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম মেট্রো রেল পরিষেবা গড়ে ওঠে এখানে। জলপথকে ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারলে কলকাতা ও হাওড়া এবং হুগলির মধ্যে পরিবহণ সমস্যা মেটানো সম্ভব। রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত ৭ বছরে গণপরিবহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় কলকাতায় নয়, আন্তরাজ্যস্তরেও বাস পরিষেবা নতুন সাজে সেজে উঠেছে। কলকাতায় নিত্যযাত্রীদের জন্য শুরু হয়েছে ‘‌পথদিশা’‌ নামক একটি বাসের অ্যাপও। বাস সম্পর্কে যাবতীয় রিয়্যাল টাইম তথ্য সহজেই পৌঁছে যাবে নিত্যযাত্রীদের কাছে। মুদিত মোটর্সের নেতৃত্বে থাকা প্রদীপ বাজাজ জানালেন, সরকার চাইলে দূরপাল্লার সরকারি বাস চালাতে আমরা প্রস্তুত। মনে রাখা দরকার, পরিবহণ ক্ষেত্রই হল কর্মসংস্থান নিবিড় ক্ষেত্র। আসলে পরিবহণই গ্রাম ও শহরের মাঝে দূরত্ব কমায়।  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top