রিনা ভট্টাচার্য: রেস্তোঁরার খাবার, পরিবেশ এবং স্বাচ্ছন্দ আপনার কেমন লাগল এবার অনায়াসে জানাতে পারবেন পর্যটনদপ্তরকে। আগামী মাসে নতুন একটি অ্যাপ চালু করতে চলেছে এই দপ্তর। এই অ্যাপের মাধ্যমে খাবার, পরিবেশ এবং স্বাচ্ছন্দের মাপকাঠি বিচার করে জানাতে পারবেন খাদ্যরসিকরা। কলকাতাসহ রাজ্যের যেসব নামীদামি রেস্তোঁরা পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটে রয়েছে, প্রথমে সেই সব রেস্তোঁরার মান যাচাই করতে পারা যাবে। পরে এই অ্যাপে যেসমস্ত রেস্তোঁরার গুণমান প্রথম দিকে থাকবে, সেই সব রেস্তোঁরাকে পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, সেই বিশেষ মর্যাদা পাওয়া রেস্তোঁরাগুলির হয়ে প্রচারও চালাবে পর্যটন দপ্তর।
 সমীক্ষায় দেখা গেছে দেশ বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা কোথায় যাবেন, কি খাবেন তা জানতে পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটের ওপরেই নির্ভর করেন। এই ব্যবস্থার ফলে ব্যবসার দিক থেকেও লাভবান হবেন ভাল ‘‌রেটিং’ পাওয়া‌ রেস্তোঁরার মালিকরা। এই অ্যাপের সুবিধে নিতে পারবে যেকোনও রেস্তোঁরা। তবে থাকতে হবে ট্রেড লাইসেন্স। খোলামেলা পরিবেশে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বানাতে হবে খাবার। থাকতে হবে রেস্তোঁরায় আগত অতিথিদের জন্য অপেক্ষা করার জায়গা, শৌচাগার। এছাড়াও বিপর্যয় ঘটলে রেস্তোঁরা থেকে বেরনোর জন্য থাকতে হবে বিশেষ ব্যবস্থা, রাখতে হবে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার যাবতীয় উপকরণ। পর্যটন দপ্তরের এক শীর্ষকর্তার কথায়, ‘‌সবাই নিজের ব্যবসা বাড়াতে চান। তাই অ্যাপের সুবিধে পেতে অনেকেই আগ্রহী হবেন বলে আশা করা যায়। পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটে নাম নথিভুক্ত করালে লাইসেন্সবিহীন রেস্তোঁরার সংখ্যাও কমবে। খাবারের গুণগতমানও বাড়বে।’‌
এখন দেখা যায় নিজের বাড়ির রাস্তার দিকের ছোট্ট একটা ঘরেই অনেকে ছোটখাটো রেস্তোঁরা বা কফিশপ খুলে বসছেন। লাইসেন্স নেই, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বানানোর বিধি মানা হচ্ছে। অথচ এই দিকগুলি মেনে চলার জন্য খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না। দরকার হয় সদিচ্ছার। পর্যটন দপ্তরের এই উদ্যোগ রেস্তোঁরার মালিকদের এই ‘‌সদিচ্ছা’‌ বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top