সাগরিকা দত্তচৌধুরি: এসএসকেএমের পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এর পর ঝাঁ– চকচকে  প্রাইভেট কেবিন তৈরি করতে চলেছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালের চক্ষু ব্লকের তিনতলায় করা হবে ভিআইপি কেবিন। জানুয়ারি মাস থেকে রোগীদের জন্য পরিষেবা চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দ্রুত কাজ শুরু হবে। মার্বেলখচিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে এলইডি টিভি, দামি সোফা, আধুনিক বেড–‌সহ খাওয়ার টেবিল, শৌচাগারে বেসিন, গিজার সব ব্যবস্থাই থাকবে। 
হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ বিমলবন্ধু সাহা জানিয়েছেন, ‘‌আপাতত ১০টি বেড নিয়ে শুরু হবে কেবিন। পরে পরিস্থিতি বুঝে বাড়ানো হতে পারে বেড। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশমতো এবং এসএসকেএম কিংবা কলকাতা মেডিক্যাল যেভাবে করেছে আমরা সেইভাবেই করার চেষ্টা করব। কেবিনে দু’‌জন করে রোগী থাকবেন। প্রতি রোগী পিছু আপাতত ২০০০ টাকা বরাদ্দ করা হবে। বাকি যাবতীয় চিকিৎসার খরচও অত্যন্ত কম হবে।’‌
ইতিমধ্যেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার স্পেশ্যালিটি ব্লকে নভেম্বরের চার তারিখে ১৩টি প্রাইভেট কেবিন চালু হয়। ১১ তারিখ থেকে রোগী ভর্তি নেওয়া শুরু হয়। বিল্ডিংয়ের ৯ ও ১০ তলা জুড়ে করা হয়েছে প্রাইভেট কেবিন। আপাতত চারজন রোগী চিকিৎসাধীন। কেবিনের পরিষেবায় সন্তুষ্ট রোগীরা। কেবিনের কাচের জানলা দিয়ে বাইরের মনোরম পরিবেশ দেখে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানান এক রোগী। 
হাসপাতালের সুপার ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘‌আস্তে আস্তে রোগীরা জানছেন, ভর্তি হচ্ছেন। রোগীদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পাওয়া গেছে। মোট ২৬টি সিঙ্গল কেবিনের মধ্যে আপাতত ১৩টি চালু হয়েছে। সরকারিভাবে রেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গল কেবিন আড়াই হাজার টাকা। পরে যদি রোগীর চাপ বাড়ে তখন দু’‌জন করে ভর্তি থাকলে ২০০০ টাকা করা হবে। অস্ত্রোপচারের খরচ সর্বোচ্চ ১২৫০ টাকা। যে কোনও বিভাগের ইমার্জেন্সি ও ডেলিভারি কেস ছাড়া বাকি সব ধরনের রোগীই ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।’‌   
 বেসরকারি এক সংস্থাকে দেখভালের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোগী ভর্তি বাড়লে তখন বাকি ১৩টি কেবিন চালু হবে। কেবিনে এলইডি টিভি, সোফা, আলমারি।  যাঁরা সরকারি পরিষেবায় সাধ্যের মধ্যে খরচ করে বেসরকারি ধাঁচে পরিষেবা পেতে চান তাঁদের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জনপ্রিয়

Back To Top