আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এই প্রথমবার পূর্ব ভারতে নিষিদ্ধ মাদক মাশরুমের সন্ধান পেল এনসিবি। কলকাতায় মাশরুম পাচারের অভিযোগে এক ডিজে সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এনসিবি। এনসিবি–র পূর্বাঞ্চল রেঞ্জের অধিকর্তা জানিয়েছেন, ধৃতরা হল দুই ভাই বিবেক এবং ঋষভ শর্মা এবং দীপ চক্রবর্তী নামে এক ডিজে। বিবেক এবং ঋষভ এমবিএ–র প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দীপের শরৎ বোস রোডে নিজস্ব রেস্তোরাঁ আছে। সে শহরের নামী পাব এবং রেস্তোরাঁয় ফ্রিলান্স ডিজে হিসেবেও কাজ করে।

ধৃতদের কাছ উদ্ধার হয়েছে এলএসডি, এমিডএমএ–এর মতো প্রচুর নিষিদ্ধ মাদক। মাশরুমের একটা ট্যাবলেট একহাজার টাকায় কিনে প্রায় ৩.‌৫০–৪০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। মাশরুম অত্যন্ত শক্তিশালী মাদক। নেদারল্যান্ডস থেকে আনা হত নিষিদ্ধ মাদক মাশরুম। জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, ওই মাদক শহরের নামী স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং পার্টিতে বিক্রি করা হত।মেক্সিকো,দক্ষিণ আমেরিকা, মালেশিয়া,ভারত, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব দিকে এই নিষিদ্ধ মাশরুম তৈরি হয়।

ধৃতরা এই মাদক মাশরুম নেদারল্যান্ড থেকে নিয়ে আসে।এই মাদক মাশরুম চা, চকোলেট বা অন্য খাবারের সঙ্গে সহজেই খেতে পারা যায়। ম্যাজিক মাশরুম খাওয়ার আধ ঘণ্টা পর তার প্রভাব ব্যক্তির মধ্যে লক্ষ্য করা যাবে। আমূল পরিবর্তন দেখতে পারবেন সেই ব্যক্তির মধ্যে।রং, শব্দ এবং আলো সবকিছুই অন্যরকম লাগবে তার কাছে। এই মাদকের প্রভাব তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে। গোয়েন্দাদের জেরার মুখে কীভাবে এই মাদক মাশরুম তৈরি করা হয় তাও জানিয়েছে ধৃতরা। এই মাদক মাশরুমগুলি বিট কয়েনের মাধ্যমে কেনাবেচা হত।

সম্প্রতি ডিজে নিখিল সহ তিনজনকে মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল এনসিবি। তাদের কাছ থেকেও প্রচুর নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার হয়েছিল। তাদের জেরা করে বেঙ্গালুরু থেকে শহরের এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়। এদের জেরা করেই বিবেকদের সন্ধান মেলে। ধৃতদের সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখান থেকেও কোনও সূত্র পাওয়া যায় কিনা তা দেখছে এনসিবিআইয়ের গোয়েন্দারা। ধৃতদের কাছ থেকে মাশরুম ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে প্রচুর এলএসডি, এমডিএমএ উদ্ধার হয়েছে।

 

 

 

 

 

মাদক মাশরুম পাচারে যুক্ত ধৃতরা।  এই সেই ম্যাজিক মাশরুম।

জনপ্রিয়

Back To Top