Exclusive DurgaPuja 2022: সপরিবারে হর-গৌরীর অধিষ্ঠান, প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মল্লিকদের পুজো

রিয়া পাত্র: শহর কলকাতার বুকে খুঁজে বেড়ালে একগুচ্ছ পুজোর খোঁজ পাওয়া যাবে, যেগুলির বয়স ২০০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে।

এগুলির মধ্যে অন্যতম পাথুরিয়াঘাটার মল্লিক বাড়ি।  সাজানো উঠোন, বড় ঠাকুর দালানের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাস। আজ থেকে প্রায় ২৭০ বছর আগে মল্লিক বাড়ির এই পুজো শুরু করেন বৈষ্ণব দাস মল্লিক। সেই শুরু, তারপর থেকেই সময় বদলেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিয়ম মেনে, রীতিনীতি মাথায় রেখেই ঠাকুর দালানে অধিষ্ঠান করেন হর-গৌরী। সঙ্গে থাকে ছেলে মেয়েরা। মল্লিকদের কুলদেবতা রাধা কৃষ্ণ। তাই   বৈষ্ণব মতেই পূজিত হন দুর্গা। কোনও রকম বলি হয় না। হয় না কুমারীপুজো। 

শরতের সকালে মল্লিকদের ঠাকুর দালানে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঠাকুর দালানের ভেতর প্রস্তুত দুর্গা প্রতিমা। পুজো প্রসঙ্গে নীলাভ মল্লিক জানিয়েছেন, আজ থেকে প্রায় ২৭০ বছর আগে, বৈষ্ণব দাস মল্লিক এই পুজোর প্রচলন করেন। তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন পুজোর, এবং যে রূপে মল্লিকদের প্রতিমা তৈরি হয়, সেই রূপেই প্রতিমাকে দেখেছিলেন স্বপ্নে বৈষ্ণব দাস। মল্লিকবাড়ির মা দুর্গার শিবের কোলে অধিষ্ঠান। দুর্গার দুটি চোখ। মল্লিকবাড়ির দুর্গার ত্রিনয়ন হয় না। মা পূজিত হন বাড়ির মেয়ে হিসেবে। পূজিত হয় জয়া বিজয়াও। নথ সহ একাধিক গয়নায় সেজে ওঠেন মা।

পুজোর রীতিনীতির সঙ্গেই অবশ্যই আলোচিত ভোগ। নীলাভ জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে দুর্গা পূজায় অন্ন ভোগ হয়না।  শুকনো ভোগ দেওয়া হয় মাকে। সেগুলি প্রায় সবই বানানো হয় বাড়িতেই। পুজোর দিন কয়েক আগে ময়রা আসেন, বাড়িতে থরে থরে তৈরি হয় খাজা গজা, লুচি, বালুসাই, মোহন ভোগ। সঙ্গে থাকে চন্দনী ক্ষ্মীর। নবমীতে মাকে ভোগ দেওয়া হয় ১ মন বাটা চিনি। 

নবমী মানেই বিদায়ের সুর। ঘরের মেয়ে ফিরে যাবে পরের দিনই। আবার এক বছরের অপেক্ষা। মেয়ে বিদায়ের পর দশমীতে মৎস মুখ করেন বাড়ির বাকিরা। 

রীতিনীতি, ভোগ প্রসাদের পাশাপশি নজর থাকে বাড়ির বাকিদের সাজসজ্জার দিকে। ছেলেরা ধুতি চেলি পরে দালানে আসে। বাড়ির বউদের পায়ে থাকে মল। হাতে রুলি। নাকে নথ। সারা বছরের ব্যাস্ততায় যে যেখানেই থাকুন না কেন,পুজোর চারদিন চেষ্টা করেন বাড়ির দালানে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে অঞ্জলি দেওয়ার।

আকর্ষণীয় খবর