শ্রাবণী গুপ্ত
 

২০১৭ বিচ্ছেদ
২০২১ পুনর্মিলন
২০১৭ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং রাজ্যসভার সাংসদ। সব পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়।
২০২১ তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে উত্তরীয় পরে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরলেন মুকুল। পাশে বসে আছেন মমতা ব্যানার্জি। এখনও খাতায় কলমে কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক মুকুল। 
সংক্ষেপে, ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’। অথবা, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল আবার সেখানেই ফিরে আসা। বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়া বোধহয় একেই বলে!
তপসিয়ার এই তৃণমূল ভবনে ঢুকতেই বাঁ হাতে একটি ঘর। দীর্ঘদিন যা ‘মুকুল রায়ের ঘর’ বলেই চিনত সবাই। এখন তৃণমূল ভবনে এলে সেই ঘরে বসেন অভিষেক। সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দল ছাড়ার সময় যার প্রসঙ্গে নাম না করে নেতিবাচক বক্তব্য ছিল মুকুলের। আবার বিজেপি ছাড়ার সময় প্রথম অভিষেকই গেছিলেন মুকুলের অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখতে। সূত্রের খবর, মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু একাধিকবার কথা বলেছেন অভিষেকের সঙ্গে। আর তারপরেই এই যোগদান। আজ যদিও মমতা অভিভাবকসুলভ যত্নে সামাল দিলেন সংবাদমাধ্যমের যাবতীয় অপ্রিয় প্রশ্ন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুকুল জানালেন, ‘বিস্তারিতভাবে লিখিত আকারে প্রেসকে জানাব কেন বিজেপি ছাড়লাম।’ 
তৃণমূল নেত্রী অবশ্য স্পষ্ট জানালেন, আগের মতোই গুরুত্ব পাবেন মুকুল। তাঁকে কী দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটাও এর মধ্যেই ঠিক করে নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁর সোজাসাপ্টা বক্তব্য, ‘অনেকেই ফিরতে চায়। কিন্তু যারা ভোটের আগে টাকার লোভে বিজেপি গেছে, আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা করেছে, ব্যক্তি আক্রমণ করেছে সেই গদ্দারদের নেব না।’ 
সর্বভারতীয় রাজনীতি আপাতত লক্ষ্য তৃণমূলের। মিশন ২০২৪ লোকসভা ভোট। আর দলের অন্দরে আবার সেই পুরোনো, চেনা সমীকরণ। সঙ্গে নতুন দায়িত্ব নিয়ে অভিষেক। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগামী দিনে দেশ জুড়ে গেরুয়া শিবিরের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
 

জনপ্রিয়

Back To Top