Medical College: মেডিক্যাল কলেজে প্রবীণ বিভাগে ভিড় বাড়ছে

বিভাস ভট্টাচার্য: সমস্যাটা শুধুমাত্র সমাজের ওপর মহলেই নয়।

নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম গানের ছেলের মত মস্ত ফ্ল্যাট যাদের নেই, তারাও আর বাবা মাকে দেখে না। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সমাজেও দেখা যাচ্ছে এই সমস্যা। বয়স্ক বাবা–মা’‌র প্রতি সন্তানের অবহেলা। যার জেরে সরকারি হাসপাতালের বয়সজনিত অসুস্থতার জন্য নির্দিষ্ট বিভাগে ভিড় বাড়ছে। যেকোনও দিন জেরিয়াট্রিকস বিভাগে গেলেই দেখা যায়, হয় দূর সম্পর্কের কোনও আত্মীয়ের হাত ধরে অথবা পাড়াতুতো সম্পর্কের কারোর ভরসায় এসেছেন অশক্ত মানুষেরা। 
চলতি বছরেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ অ্যাণ্ড হসপিটাল–এ চালু হয়েছে বয়স্ক রোগের চিকিৎসায় অন্তঃ ও বহির্বিভাগ। বিভাগীয় প্রধান ডা: অরুণাংশু তালুকদার বললেন, ‘‌আমাদের কাছে আসা দশ জনের মধ্যে পাঁচ কি ছয় জন রোগীই ভুগছেন একাকিত্বে। তাঁরা জানিয়েছেন, ছেলেমেয়েরা হয় দূরে থাকে অথবা কাছে থেকেও খোঁজ নেয় না। এজন্য হাসপাতালে আসতে তাঁদের ভরসা করতে হচ্ছে আত্মীয় অথবা প্রতিবেশীদের।’‌ 
সরকারি হাসপাতাল হল গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসাস্থল। দেখা গেছে, উচ্চবিত্তরা সাধারণত পছন্দ করেন বেসরকারি জায়গায় চিকিৎসা করাতে। সেই হিসেবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বয়সজনিত রোগ বিভাগেও রোগীরা সাধারণত মধ্য বা নিম্নবিত্ত পরিবার থেকেই আসছেন। সেখানেই ধরা পড়ছে রোগের পাশাপাশি তাঁদের একাকিত্বের যন্ত্রণার দিকটি। 
সাধারণ অসুখের বাইরে আরও বেশ কিছু অসুখে ভোগেন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা। যেই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি হল শারীরিক ব্যালান্স হারিয়ে ফেলা এবং পড়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়া। মল, মূত্রের বেগ চাপতে না পারা বা বারেবারে এই বেগ অনুভব করা। বয়সের সঙ্গে তৈরি হয় দাঁত পড়ার সমস্যা, শুকিয়ে যায় লালাগ্রন্থি, সঙ্কুচিত হয়ে যায় চোয়াল। যার জেরে খাওয়ার ইচ্ছে চলে যায়, ঠিকঠাক খেতে না পারার সমস্যা তৈরি হয়। এর জেরে হয় অপুষ্টি। সেইসঙ্গে কমে যায় স্মৃতিশক্তি। কাজের জগৎ থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য তৈরি হয় একাকিত্ব। 
ডা: অরুণাংশু তালুকদার বলেন, ‘‌এমনকী সাধারণ কোনও রোগের বহিঃপ্রকাশও বয়স্কদের মধ্যে অন্যরকমভাবে হয়। যেমন ডেঙ্গি রোগে তাঁর হয়ত জ্বর হতে পারে, কিন্তু গায়ে ব্যথা নাও হতে পারে। সেজন্য অতিরিক্ত খেয়াল রাখা প্রয়োজন বাড়ির লোকের।’‌ 
উচ্চ, মধ্য ও নিম্নবিত্ত মিলিয়ে এইমুহূর্তে দেশে ষাটোর্ধ্ব মানুষ জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ। বিভাগীয় প্রধান জানিয়েছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে ২০৩০ সালে এটা দাঁড়াবে ২০ শতাংশের কাছাকাছি।‌ ফলে তখন আরও বেশি করে প্রবীণদের চিকিৎসার দরকার হয়ে পড়বে। বহির্বিভাগে এখন সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি চালু করা হয়েছে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা। যেখানে রোগ না থাকলেও আগত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করে রিপোর্ট নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে এই রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালে ব্যবস্থা করা হয়েছে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনটি আসনের। যা পূর্ব বা উত্তর–পূর্ব ভারতের আর কোথাও নেই।

আরও পড়ুন:‌ দাউদাউ করে জ্বলছে গাড়ি, ভিতর থেকে উদ্ধার কঙ্কাল
 


 

আকর্ষণীয় খবর