আজকালের প্রতিবেদন- স্কুল শিক্ষকের কাটা আঙুল জুড়লেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা। সরকারি  হাসপাতালে প্রথম এই ধরনের অস্ত্রোপচার হল বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় চিকিৎসকরা। 
পাথরপ্রতিমার বাসিন্দা বছর চল্লিশের অনুপকুমার প্রামাণিক প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। তাঁর বাড়িতে মার্বেল কাটার মেশিন দিয়ে কাজ করছিলেন মিস্ত্রি। তিনি মিস্ত্রির সঙ্গে হাত লাগাতে গেলে, তখনই ঘটে এই বিপত্তি। বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল গোড়া থেকেই কেটে পুরো আলাদা হয়ে যায়। প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কাটা আঙুল সঙ্গে নিয়ে দুপুরে সোজা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে পৌঁছন। ৬ জুন সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয় প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে। ওইদিন কাটা আঙুল বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। পরের দিন ৭ জুন টানা ৬ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারের পর অনুপের কাটা আঙুল জোড়েন চিকিৎসকরা। প্লাস্টিক সার্জারির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ প্রবীর যশ এবং ডাঃ শান্তনু সুবা, ডাঃ বিশ্বজিৎ মণ্ডল এবং ডাঃ অমিয় বাসুদেওর নেতৃত্বে চলে অস্ত্রোপচার। দিন সাতেক পর রোগীর ছুটি হলেও, চেক আপ করাতে নিয়মিত আসছেন হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, তিনি আগের থেকে অনেকটাই ভাল আছেন। ফিজিওথেরাপিতে উন্নতি হয়েছে।  ৯০ শতাংশের বেশি স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করতে পারছেন। টর্চ, পেন, চাবি, গ্লাস সবই ধরতে পারছেন। 
ডাঃ প্রবীর যশ বলেন, ‘‌‌ এ ধরনের অস্ত্রোপচারে সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৬ ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রোপচার করতে পারলে সফলতা পাওয়া যায়। যেদিন রোগী আসেন, তখন প্রায় বিকেল হয়ে গেছিল। আঙুল না হয়ে যদি কনুইয়ের ওপর বা নীচের মাংসপেশি থেকে কেটে বাদ যেত, তাহলে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই অস্ত্রোপচার করতে হত। কিন্তু এই রোগীর ক্ষেত্রে দেখলাম আঙুল সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। সেই কারণেই পরের দিন অস্ত্রোপচার করি, সফল হয়েছি। কাটা আঙুল ভালভাবে পরিষ্কার প্লাস্টিকের মধ্যে জড়িয়ে সেটা জীবাণুমুক্ত গ্লাভসের মধ্যে রেখে একটা পাত্রের মধ্যে ভরে ফ্রিজের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলাম। তবে সরাসরি বরফের মধ্যে রাখা হয়নি, এতে টিস্যুগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাতের কাটা অংশের সঙ্গে আঙুলের প্রথমে হাড় তারপর টেন্ডন জুড়ি, পরিশেষে শিরা, ধমনি ও নার্ভগুলো মাইক্রোস্কোপ সার্জারি করে জুড়ে দিই। হাড়কে সামান্য ছোট করতে হয়েছে, যাতে পরে শিরা, ধমনিতে টান না পড়ে।’‌ ‌‌‌

চিকিৎসকের সঙ্গে অনুপকুমার প্রামাণিক। 

জনপ্রিয়

Back To Top