বেলুন ফোলানোর হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করে আত্মহত্যা, সল্টলেকে উদ্ধার দেহ

আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাশে পড়ে আছে হিলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার। সিলিন্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত পাইপ ঢুকে গেছে শুয়ে থাকা এক ব্যক্তির মুখে। তাঁর মুখ আবার প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা। বিধাননগর নর্থ থানার লাবণী এস্টেটে। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত পি সামরিথ (৩২) আদতে তেলেঙ্গানার বাসিন্দা। পেয়িং গেস্ট হিসেবে এখানে থাকছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে আত্মহত্যার জন্য পি সামরিথ হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করেছিলেন। সোমবার ১৯ জুলাই তাঁর দেহ উদ্ধারের পর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। 
বিধাননগর পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, আত্মহত্যা করার জন্য যে পদ্ধতি তিনি ব্যবহার করেছেন সেই ধরনের পদ্ধতি সাধারণত এই রাজ্যে খুব একটা দেখা যায় না। দক্ষিণ ভারতে এইভাবে আত্মহত্যা করার নজির আছে। 
ওই আধিকারিক বলেন, মুখের মধ্যে হিলিয়াম গ্যাসের পাইপ ঢুকিয়ে দেওয়ার পর যাতে ভেতরের গ্যাস বাইরে এবং বাইরের গ্যাস কোনওভাবেই ভেতরে ঢুকতে না পারে সেজন্য মুখ প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকার পর সেটি সেলোটেপ দিয়ে আটকে দিয়েছিলেন তিনি। 
চিকিৎসক তরুণ মণ্ডল বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য বেলুন ফোলাতে হিলিয়ামের ব্যবহার আছে। যেটাকে আমরা গ্যাস বেলুন বলি। কিন্তু আদতে এটি একটি বিষাক্ত গ্যাস। যতটা গ্যাস শরীরে ঢুকবে ততটা অক্সিজেন থেকে শরীর বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে যদি কোনও ট্যাঙ্ক বা কনটেইনার থেকে এটা শরীরে ঢোকে তবে যে গতিতে এটা ঢুকবে তার থেকে রক্তে বুদবুদ তৈরি হবে। যেটা মস্তিষ্ক, ফুসফুস বা হৃদপিণ্ডে বড়সড় ক্ষতি করে দেবে। এমনকী ফুসফুস ফেটে পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে খুব দ্রুত মৃত্যু ঘটে।'
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরিরত সামরিথ অবসাদে ভুগছিলেন। তাঁর এক পরিজন মারা যাওয়ার পরেই তিনি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সুইসাইড নোটেও তিনি তাঁর অবসাদের কথা উল্লেখ করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।