তাপস গঙ্গোপাধ্যায়: আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দলের নির্বাচনী ইস্তাহার বা বিজেপি–‌‌র ভাষায় সঙ্কল্প পত্রে ১৩০ কোটি ভারতবাসীর কাছে একটি দু পাতার চিঠি ইংরেজিতে লিখেছেন। তাঁর কথায়, গত ৫ বছরে প্রত্যেক ভারতবাসী প্রধানমন্ত্রীর জনধন যোজনায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মালিক। তাঁর বা বিজেপি সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কল্যাণে ৫০ কোটি ভারতীয় আজ স্বাস্থ্য বিমার অধিকারী। এছাড়া অসংগঠিত ক্ষেত্রে ৪০ কোটি ভারতীয় এখন পেনশনের সুযোগ পাবেন। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পরিবারে টয়লেট পৌঁছে গেছে, ২০১৪ সালে যা ছিল মাত্র ৩৮ শতাংশ পরিবারে। মুদ্রা যোজনায় অল্পবয়সিদের পক্ষে আজ ধার পাওয়া অত্যন্ত সহজ, ফলে যে কেউ আজ শিল্প, তা যত ছোট কুটির শিল্পই হোক, উদ্যোগী হতে পারে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে আয়কর সম্পূর্ণ ছাড়। সৌভাগ্য যোজনায় আড়াই কোটিরও বেশি ঘরে আজ বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে— 
দেশে কোনও গ্রাম আর অন্ধকারে ডুবে নেই। দেড় কোটিরও বেশি ঘরে বিনা খরচে গ্যাসের সিলিন্ডার পৌঁছে গেছে গত ৫ বছরে। আর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আমরা দেড় কোটির ওপর ঘর বানিয়ে দিয়েছি, যাদের মাথায় কোনও ছাদ ছিল না।
সঙ্কল্প পত্রের ভেতরে অর্থাৎ আগামী ৫ বছরে আর কী কী করবেন নরেন্দ্র মোদি, তার ফিরিস্তি পেশ করার আগেই শঙ্করী চোপা দিয়ে উঠল,‌ ‘‌ঘর?‌ কোথায় ঘর হয়েছে দাদাবাবু?’‌‌ আমি বললাম, সারা দেশে, যাদের ছিল না, তাদেরই ঘর বানিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা দিয়েছেন মোদি। এবার শঙ্করী রীতিমত ঝাঁঝিয়ে উঠল। ‘‌বছর ২/‌৩ আগে আমাদের পাড়ায় বিজেপি–‌র লোকেরা এসে বলে গেল, দিল্লি পাকা ঘর বানিয়ে দেবে। আমরা সবাই ১ লাখ করে টাকা পাব। পাড়ায় পোস্টারও পড়ল। আমাদেরই একজন বলল, আমরা যে বাড়িতে এখন থাকি, সেই বস্তির ঘরের এবং সেই ঘর যে জমির ওপর তার মালিক তো অন্যরা। বিজেপি–‌র লোকেরা বলল, তাতে কিছু যাবে আসবে না। তোমরা টাকা পাবে। কিন্তু সে টাকা আজও আমাদের কেউ পায়নি।’‌
শঙ্করী অর্থাৎ শঙ্করী মল্লিক, দীপকের স্ত্রী দু’‌বাড়িতে সকাল–‌সন্ধ্যায় বাসন মেজে, ঘর ঝাঁট দিয়ে এক বাড়িতে পায় তিন হাজার, আর এক বাড়িতে দেড় হাজার। দীপক পালিশের মিস্ত্রি। যেদিন কাজ পায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় হয়। যেদিন কাজ থাকে না, নো আয়। ওদের দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে রিঙ্কি নিউ আলিপুর গার্লস কলেজে এখন বিএ সেকেন্ড ইয়ার। ওর বয়স ১৯। দ্বিতীয় কোয়েল ১৩ পার করে ১৪–‌তে পা দিয়েছে। ক্লাস এইট। ছোট ছেলে রাহুল সবে ৫ পেরিয়েছে। একটা ধাঁধা শঙ্করীর কিছুতেই কাটছে না। তা হল, ১৮ বছর পার করে বিয়ে না করে যে মেয়ে পড়াশোনা চালায় তার কন্যাশ্রীর ২৫০০০ টাকা পাওয়ার কথা। তাছাড়া ক্লাস এইটের পর থেকে কন্যাশ্রী সব পড়ুয়া মেয়েই পাচ্ছে। কোয়েল স্কুলে ঢোকার পর কন্যাশ্রীর ফর্ম ফিল আপও হয়ে গেছে। কিন্তু রিঙ্কি আজ পর্যন্ত একবার মাত্র ৭০০ টাকা পেয়েছে। অথচ স্কুলে ওর সঙ্গে যারা পড়ল বা কলেজে যারা পড়ে, তারা সবাই পাচ্ছে। শুধু বাদ রিঙ্কি। কেন?‌ 
তাছাড়া সবুজসাথী প্রকল্পে রিঙ্কির সাইকেল পাওয়ার কথা। পায়নি। অথচ ওর বন্ধুরা সবাই পেয়ে গেছে। তবে কি স্কুলে পড়ার সময় রিঙ্কির ফর্ম ভরতে কোনও গন্ডগোল হয়েছিল?‌ টালিগঞ্জ মেট্রো রেলের রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনের গায়ে বাঙালপাড়ার প্রান্তে থাকে শঙ্করী। সে দেখছে কন্যাশ্রীর টাকা, সবুজসাথীর সাইকেল অন্য মেয়েরা পাচ্ছে। বাদ শুধু রিঙ্কি। শঙ্করীর ভয়, মেজ কোয়েল আবার বাদ পড়বে না তো?‌ জানতে চাইলাম দিল্লির উজ্জ্বলা যোজনা, সৌভাগ্য যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা, বা পেনশন যোজনায় দীপক কি নাম লিখিয়েছে?‌ ঝামটা দিয়ে উঠল পৃথুলা শঙ্করী, ‘‌থাম তো দাদাবাবু। দিল্লির কথা আর বোল না। ঘরই হল না, ওসব যোজনা দিয়ে কী আমাদের চলবে?‌ তবু মমতা ২ টাকায় চাল ও গম দিচ্ছে। আমাদের পাঁচটা কার্ডে ৫০০ গ্রাম হিসাবে মাসে ৫ কিলো চাল ও ৫ কিলো গম পাই। তাতে আমাদের চলে না। ৩০ কিলো চাল মাসে লাগে। তবু তো রেশনে কিছু পাই। মমতা তবু দেয়। মোদি কী দিয়েছে?‌‌‌‌’‌‌‌

পরিবহণ ব্যবসার মাধ্যমে বাংলার যুবসমাজকে স্বনির্ভর করতে এই প্রকল্প। বাণিজ্যিক গাড়ি কেনার জন্য বড়সড় ছাড় দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতাধীনরা গাড়ি কিনতে পরিবহণ দপ্তরের অনুমতিপত্রও পান অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে। 
গাড়ি কিনতে সরকার সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়। আবেদনকারীর পারিবারিক মাসিক আয় ২৫ হাজারের মধ্যে থাকতে হয়। ‘গতিধারা’ প্রকল্পে গাড়ি কেনার ঋণ পেয়ে স্বনির্ভর ২৪ হাজারেরও বেশি যুবক–যুবতী।

জনপ্রিয়

Back To Top